জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ১ অক্টোবর রোমে তাদের সদর দপ্তরে প্রথম আন্তর্জাতিক কফি দিবস পালন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল কফি উদযাপন এবং প্রতিটি কাপের পেছনের মানুষদের সম্মান জানানো। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০২৬ সালের ১০ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস ঘোষণা করে।
এফএওর হিসাবে বিশ্বে আড়াই কোটি পর্যন্ত কৃষকের জীবিকা কফির ওপর নির্ভরশীল, আর সব কফি খামারের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষুদ্র চাষিদের। ২০২৪ সালে বিশ্বে কফি বিনের উৎপাদন ১ কোটি ১০ লাখ টন ছাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কফি উৎপাদন করেছে ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম মিলে, রপ্তানিতেও তারা শীর্ষে। বড় আমদানিকারকদের মধ্যে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে এফএওর মহাপরিচালক কু দংইউ বলেন, কফি খাতকে আরও সহনশীল করতে টেকসই ও জলবায়ু-সহিষ্ণু উৎপাদনে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে সহজ প্রবেশাধিকার এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য আরও সুযোগ দরকার। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার সঙ্গে এফএওর অংশীদারির কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এফএও বলছে, কফিচাষিরা জলবায়ুর অনিশ্চয়তা, বাজারের ওঠানামা, অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং মূল্যশৃঙ্খলে আয়ের বৈষম্যের মুখে আছেন। খামারের বাইরেও কফি কর্মসংস্থান ও আয় তৈরি করে এবং অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের রপ্তানি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
২০২৬ সাল আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ হওয়ায় দিবসটিতে কফির উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যবসা ও নেতৃত্বে নারীদের অবদানকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জমি, অর্থায়ন, প্রযুক্তি, সেবা ও বাজারে পৌঁছাতে তাঁরা এখনো নানা বাধার মুখে পড়েন। একই সপ্তাহে চলা বনবিষয়ক কমিটির ২৮তম অধিবেশনের সূত্রে কফি, বন ও কৃষিবনায়নের সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরে এফএও।
অনুষ্ঠানে ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইতালির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের কফি খাত নিয়ে বক্তব্য দেন। বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্কসহ ১৩টি দেশ তাদের কফির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রাখে।
ছবি: DFID - UK Department for International Development / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)