ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাজারজাতযোগ্য শূকরের দাম ঘুরে দাঁড়ানোর গতি কমে এসেছে; রোগের ঝুঁকি ও বাড়তি উৎপাদন বাজারকে চাপে রাখছে। যুক্তরাজ্যের কৃষি ও উদ্যানপালন উন্নয়ন বোর্ডের (এএইচডিবি) হালনাগাদ তথ্যের বরাতে এ খবর দিয়েছেন অ্যাগ্রিল্যান্ডের ক্যাথলিন ও'সালিভান (Kathleen O'Sullivan)।
এএইচডিবির বিশ্লেষক অ্যাডাম চৌধুরী (Adam Chowdry) বলেন, গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে শূকরের খাদ্য গ্রহণ ও বৃদ্ধি কমায় স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ কমেছে, যা দামকে সহায়তা করেছে, বিশেষ করে জার্মানি ও স্পেনে; ছুটির পর স্বাভাবিক বাণিজ্য ফেরাও চাহিদা বাড়িয়েছে। বড় উৎপাদক দেশগুলোর বেশির ভাগে গত এক মাসে দাম বেড়েছে, তবে ফ্রান্স ছাড়া সব দেশেই তা এখনো গত বছরের চেয়ে কম।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউর শূকরের মাংস উৎপাদন ১.৮ শতাংশ (১ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টন) বেড়ে ১ কোটি ১১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। স্পেনে উৎপাদন বেড়েছে ৩ শতাংশ (৮৪ হাজার ৯০০ টন), ডেনমার্কে ৯ শতাংশ (৬১ হাজার ৭০০ টন), পোল্যান্ডে ৩ শতাংশ (৩৩ হাজার ১০০ টন); নেদারল্যান্ডসে কমেছে ৭ শতাংশ (৫০ হাজার ৭০০ টন)। জবাই হওয়া শূকরের সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়ে ১১ কোটি ৩৯ লাখ হয়েছে, গড় মৃতদেহের ওজন ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৫ কেজি।
রপ্তানি ১.২ শতাংশ কমে ১৯ লাখ ৮০ হাজার টন হয়েছে। চীন এখনো সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলেও সেখানে রপ্তানি কমেছে ১৯.৫ শতাংশ; চৌধুরীর মতে এর কারণ চীনের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা, দেশটির অতিরিক্ত সরবরাহ, দুর্বল চাহিদা ও স্বনির্ভরতার চেষ্টা। যুক্তরাজ্যে রপ্তানি কমেছে ৬ শতাংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ টন এবং ভিয়েতনামে ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ হাজার ৪০০ টন হয়েছে। আমদানি ৭ শতাংশ বেড়ে ৭০ হাজার ৩০০ টন হয়েছে, যার ৫২ হাজার ৩০০ টন এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে।
চৌধুরী আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারকে বড় ঝুঁকি বলেছেন; হাঙ্গেরিতে খামারের শূকরে সংক্রমণ আগের আক্রান্ত এলাকা থেকে দূরেও ছড়িয়েছে। সরবরাহ বেশি, চাহিদা দুর্বল ও দাম কম, সঙ্গে চীনের শুল্কের কারণে ব্রাজিলের মতো কম খরচের সরবরাহকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কঠিন হওয়ায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাজার কঠিন থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ছবি: Saharalyn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)