মাটি ছাড়া, শিকড়ে পুষ্টিকর কুয়াশা ছিটিয়ে রোগমুক্ত বীজ আলু উৎপাদনের প্রযুক্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে ইংল্যান্ডে। যুক্তরাজ্যের স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স (Airponix) ও ডাইসন ফার্মিং রিসার্চ (Dyson Farming Research) দুই বছরের এই গবেষণায় দেখবে, দেশেই প্রথম প্রজন্মের (জি-জিরো) বীজ আলু উৎপাদন সম্ভব কি না। অর্থায়ন করছে দেশটির সরকারি কৃষি উদ্ভাবন কর্মসূচি।
ইংল্যান্ডে বছরে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ লাখ জি-জিরো আলু লাগে। এই বীজই পরে মাঠে তিন-চারবার বাড়িয়ে বাণিজ্যিক বীজ করা হয়। অংশীদারেরা জানতে চান, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দেশে উৎপাদন করলে খরচ ও নির্ভরযোগ্যতায় তা এখনকার সরবরাহের চেয়ে ভালো হয় কি না।
প্রযুক্তিটি অ্যারোপনিক্সের একটি রূপ, যেখানে শিকড় মাটিতে নয়, বাতাসে ঝোলে। জীবাণুমুক্ত ঘেরের মধ্যে ঝুলন্ত শিকড়ে অতি সূক্ষ্ম পুষ্টিকর কুয়াশা ছিটানো হয়। পরীক্ষায় কৃত্রিম আলো নয়, প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার হচ্ছে, আর আছে পিটমুক্ত মাধ্যম।
মেশিন ভিশন ক্যামেরা সারাক্ষণ শিকড়, পাতা, আলু গঠন ও গাছের চাপ পর্যবেক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠান দুটি বলছে, এতে মাঠের মতো একসঙ্গে না তুলে আলু ঠিক আকারে পৌঁছালেই তোলা যায়।
ডাইসনের একটি কাচঘরে চারটি ইউনিটে ৬ হাজারের বেশি গাছ নিয়ে পরীক্ষা চলছে। প্রধান নির্বাহী মাইকেল রুগিয়ার (Michael Ruggier) উদাহরণ দেন সৌদি আরবের নাডেকের ৯৪০ বর্গমিটারের একটি স্থাপনার, যেখানে ৩৩ হাজার গাছ থেকে দিনে প্রায় ৩ ঘনমিটার পানিতে বছরে প্রায় ১০ লাখ ক্ষুদ্র আলু হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি; এ হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। এয়ারপনিক্সের লক্ষ্য, উৎপাদন খরচ বর্তমান পদ্ধতির অর্ধেকের নিচে নামানো।
ছবি: Philippus Jacobus Steyn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture



মন্তব্য
(০)