এল নিনোর প্রভাবে এ পর্যন্ত ফিলিপাইনের কৃষিতে ৬৮৭ কোটি পেসো (প্রায় ১২ কোটি ডলার) ক্ষতি হয়েছে। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দেশটির কৃষি বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত করে গ্লোবাল এগ্রিকালচার জানিয়েছে, দেশের ১৮টি অঞ্চলের ১৪টিতে ক্ষতির বড় অংশ ভুট্টা ও ধানে।
হিসাবে ২ লাখ ২৩ হাজার ২১৪ জন কৃষক ও ২ লাখ ৪৯ হাজার ২৮ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত, উৎপাদন কমেছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮১২ টন। ভুট্টায় ক্ষতি ৪৯০ কোটি পেসো, ১ লাখ ৭০ হাজার ৬০৫ হেক্টরে; ধানে ১৫৩ কোটি পেসো, প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে। সবজি, কলা ও আনারসের মতো উচ্চমূল্যের ফসলে ক্ষতি প্রায় ৩৯ কোটি ৭০ লাখ পেসো। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা উত্তরের কর্ডিলেরা ও কাগায়ান উপত্যকা থেকে দক্ষিণের কারাগা পর্যন্ত বিস্তৃত।
কৃষি বিভাগের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত জমির প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর, সহায়তা পেলে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারে; বাকি ৫৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল এই মৌসুমে আর রক্ষা করা যাবে না। শুষ্ক আবহাওয়া চলতে থাকায় ক্ষতির হিসাব আরও বাড়বে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
সরকার প্রায় ৯৭০ কোটি থেকে ১,১০০ কোটি পেসোর সহায়তা প্যাকেজ নিয়েছে। এর ৬২০ কোটি পেসো জ্বালানি ও সার সহায়তায়, যার মধ্যে জৈবসারে ২২০ কোটি এবং কৃষক ও জেলেদের জ্বালানি সহায়তায় ১০০ কোটি করে। সৌরচালিত সেচে আরও ৩৫০ কোটি পেসো চাওয়া হয়েছে, সঙ্গে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ও খরাপীড়িত এলাকায় ৩৩৮টি পানির পাম্প। ফিলিপাইন ক্রপ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন ৪২ হাজার ৩৮৩ জন কৃষককে ৪২ কোটি ৭০ লাখ পেসো দিয়েছে। বিভাগের মুখপাত্র আর্নেল দে মেসা বলেন, এবার "একবারে সবার জন্য এক ব্যবস্থা" নয়, "এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট পদক্ষেপ" নেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ক্ষতি ২০২৪ সালের তীব্র এল নিনোর ১,৫৩০ কোটি পেসোর চেয়ে অনেক কম, সে বছর কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ৩.৩ শতাংশ কমেছিল। তবে অক্টোবর থেকে "খুব শক্তিশালী" এল নিনোর পূর্বাভাস রয়েছে। ভুট্টা ও ধানের উৎপাদন কমায় দাম বাড়তে পারে, অথচ ফিলিপাইন এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম বড় চাল আমদানিকারক।
গ্লোবাল এগ্রিকালচারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাব সাধারণত এশিয়াজুড়ে ছড়ায়, তাতে আগামী মৌসুমে ভারতে অনিয়মিত বর্ষার আশঙ্কা বাড়ে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কখনো কখনো ভারতের চালের বড় ক্রেতা ফিলিপাইনে সরবরাহ সংকট হলে আঞ্চলিক চালের দামও বাড়তে পারে।
ছবি: Willy Vergara / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)