গবেষণাগারে কোষ থেকে মাংস তৈরি করা দুই প্রতিষ্ঠান, ইসরায়েলের এভার আফটার ফুডস (Ever After Foods, ইএএফ) ও স্কটল্যান্ডের রসলিন টেকনোলজিস (Roslin Technologies), বলছে, নিজেদের প্রযুক্তি মিলিয়ে তারা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ, কাঠামোবদ্ধ কালচার্ড মাংস তৈরি করেছে। ইএএফের খাওয়ার উপযোগী কাঠামোয় সরাসরি কোষ বাড়িয়ে প্রচলিত আলোড়িত ট্যাংক পদ্ধতির তুলনায় প্রোটিন ও শুকনো জৈববস্তু উৎপাদনশীলতা ১৯ গুণ এবং ভেজা জৈববস্তু ১১ গুণ বেশি পাওয়া গেছে বলে তাদের দাবি।
এই শিল্পের প্রধান বাধা খরচ। ইএএফের প্রধান নির্বাহী এয়াল রোজেনথাল (Eyal Rosenthal) গ্রিন কুইনকে বলেন, কালচার্ড মাংস অর্থনৈতিকভাবে টিকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে উৎপাদনশীলতার ওপর। একই আয়তনে বেশি উৎপাদন মানে কেজিপ্রতি কম যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও চালানোর খরচ; আর কাঠামোর ওপরেই টিস্যু বাড়ায় আলাদা করে কোষ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতের ধাপও কমে।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জন্ম নেওয়া রসলিন দিয়েছে শূকরের প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল, যা অনির্দিষ্টকাল বিভাজিত হতে পারে এবং সস্তা, খাদ্য-নিরাপদ মাধ্যমে দ্রুত বাড়ে। প্রথমে সিরামমুক্ত মাধ্যমে কোষগুলো ভাসমান গুচ্ছ হিসেবে বাড়ানো হয়, তারপর ভেঙে ইএএফের প্যাকড-বেড বায়োরিঅ্যাক্টরে দেওয়া হয়, যেখানে তারা উদ্ভিদভিত্তিক প্ল্যান্ট্রিক্স কাঠামোয় আটকে যায়। নয় দিনে কোষের ঘনত্ব মিলিলিটারে ১৫ কোটিতে পৌঁছায়, যা ৬২ গুণ বৃদ্ধি।
লিটারপ্রতি মিলেছে ৩২৬ গ্রাম ভেজা জৈববস্তু, ৫৭ গ্রাম শুকনো জৈববস্তু ও ৪০ গ্রাম কালচার্ড প্রোটিন; প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে কোষের ঘনত্ব পাঁচ গুণ এবং কোষপ্রতি প্রোটিন চার গুণ বেশি। তৈরি পণ্যের ওজনে কাঠামোর ভাগ ২ শতাংশেরও কম, এবং কাঠামো ও মাধ্যম বাদ দিয়েই হিসাব করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে।
রোজেনথাল জানান, মূলধন ও উৎপাদন খরচ অনেক কমার যে হিসাব তাঁরা করেছেন, তা এখনো বাণিজ্যিক পরিসরে যাচাই করতে হবে। কোষ কৃষি প্রতিষ্ঠান প্লুরি এবং ইসরায়েলের বৃহত্তম খাদ্য কোম্পানি তনুভার যৌথ উদ্যোগ ইএএফ সুইস প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান বুলারের (Bühler) সঙ্গে ২০০ লিটারের একটি মডিউলার উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করেছে; শিল্প পরিসরে যাচাই তাদের পরের লক্ষ্য। সম্ভাব্য প্রথম বাজার হিসেবে তারা পোষা প্রাণীর খাবার দেখছে, কালচার্ড মাছ নিয়েও কাজ করছে।
এখনো কোনো নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের আবেদন করা হয়নি; সিঙ্গাপুর, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রস্তুতি চলছে, আর শর্ত নির্ভর করবে সহযোগীদের পণ্য, কোষের ধরন ও বাজারের ওপর।
ছবি: Jonas Schenk / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)