মুরগির বিষ্ঠা থেকে তৈরি মাটির সার এবং আবহাওয়া মিলে মিষ্টি পেঁয়াজের জমিতে এশেরিকিয়া কোলাই (ই. কোলাই) ব্যাকটেরিয়ার টিকে থাকার সময় বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় দুই বছরের এক মাঠ গবেষণায় এ তথ্য মিলেছে, যা প্রকাশিত হয়েছে রিস্ক অ্যানালাইসিস সাময়িকীতে।
গবেষকেরা দেখেছেন, দুই মৌসুমেই তাপে শোধিত মুরগির বিষ্ঠার পেলেট ও কম্পোস্ট করা বিষ্ঠা দেওয়া মাটিতে ই. কোলাই সার না দেওয়া মাটির চেয়ে বেশি দিন বেঁচে ছিল।
আবহাওয়ার প্রভাবও ছিল, যদিও দুই মৌসুমে এক রকম নয়। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ব্যাকটেরিয়া বেশি দিন টিকেছে, জোরালো বাতাসে সাধারণত কম। বৃষ্টি ও উষ্ণ মাটি টিকে থাকতে সাহায্য করেছে, আর বেশি বায়ুর তাপমাত্রা ও বাতাসের গতি তা কমিয়েছে। গবেষকদের মতে, মৌসুমের গড় আবহাওয়ার চেয়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনাই হয়তো ঠিক করে দেয় মাটিতে ব্যাকটেরিয়া কত দিন থাকবে।
গবেষকদের একজন কাপুর বলেন, ‘জৈব ফসল উৎপাদনকারীরা মাটির স্বাস্থ্য ও ফলন বাড়াতে জৈব সারের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। আমাদের ফল বলছে, মাঠের পরিবেশ আর সারের ধরন মিলে ই. কোলাইয়ের টিকে থাকায় প্রভাব ফেলে।’
জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পোলট্রি উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি। সেখানে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন মুরগির বিষ্ঠা (বিষ্ঠা, বিছানার উপকরণ, পালক ও খাবারের অবশেষের মিশ্রণ) তৈরি হয়, যা সার হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উত্তর আমেরিকায় পেঁয়াজের সঙ্গে কয়েকটি বড় খাদ্যবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের যোগ পাওয়া গেছে, যেমন ২০২৪ সালে ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গারে কুচি পেঁয়াজ, ২০২০ সালে লাল পেঁয়াজে সালমোনেলা নিউপোর্ট এবং ২০২১ সালে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পেঁয়াজে সালমোনেলা ওরানিয়েনবার্গ।
গবেষকেরা বলছেন, প্রাণিজ উৎসের সারের খাদ্য নিরাপত্তাজনিত প্রভাব নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখনো তথ্য খুঁজছে। এসব চর্চা চরম আবহাওয়ার সঙ্গে কীভাবে মিশে কাজ করে, তা জানা গেলে খামারপর্যায়ে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
সোসাইটি ফর রিস্ক অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত এই ফলাফল মর্নিং অ্যাগ ক্লিপস প্রচার করেছে।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Morning Ag Clips





মন্তব্য
(০)