সাত বছরের ছেলের নাকের নিচে গোঁফের রেখা, কিংবা ছয় বছরের মেয়ের মাসিক শুরু হয়ে যাওয়া: সময়ের অনেক আগে বয়ঃসন্ধির এমন লক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের শিশু নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদীপ্ত কুমার মুখার্জি। প্রথম আলোতে প্রকাশিত লেখায় তিনি বলেছেন, এটি হরমোনজনিত সমস্যা, আর এর পেছনে থাকতে পারে মস্তিষ্কের ছোট্ট গ্রন্থি পিটুইটারির রোগ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় প্রিকোসিয়াস পিউবারটি। অনেক ক্ষেত্রে এর কারণ পিটুইটারির ক্ষুদ্র টিউমার বা মাইক্রোএডেনোমা; ১০ মিলিমিটারের (১ সেন্টিমিটার) কম আকারের টিউমারকে এ নামে ডাকা হয়। টিউমারের কারণে হলে একে বলে সেন্ট্রাল প্রিকোসিয়াস পিউবারটি। তবে টিউমার ছাড়াও এ সমস্যা হতে পারে।
ডা. মুখার্জি ব্যাখ্যা করেছেন, পিটুইটারি গ্রন্থি এলএইচ ও এফএসএইচসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে, যা বয়ঃসন্ধির পরিবর্তনের জন্য জরুরি; কৈশোরে গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে শরীর দ্রুত বাড়ে। গ্রন্থিতে সমস্যা হলে অকালে অতিরিক্ত হরমোন ক্ষরণে আগাম বয়ঃসন্ধি এবং শরীরের দ্রুত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে পারে।
গ্রন্থিটি চোখের পেছনে করোটির ভেতরে থাকে। তাই টিউমার হলে বা এটি বড় হলে মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। যেসব টিউমার হরমোন তৈরি করে না, সেগুলোতে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না; অন্য কারণে মস্তিষ্কের এমআরআই করার সময় হঠাৎ ধরা পড়ে।
চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারটি হরমোন তৈরি করছে কি না এবং রোগীর লক্ষণের ওপর। হরমোন তৈরি করে না এমন টিউমারে সাধারণত ওষুধ লাগে না; এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় পরপর হরমোন পরীক্ষা, চোখের পরীক্ষা ও এমআরআই করে পর্যবেক্ষণে রাখাই যথেষ্ট বলে তিনি লিখেছেন।
তাঁর পরামর্শ, শিশুর শরীরে বয়সের তুলনায় আগাম পরিবর্তন দেখলে অভিভাবকেরা যেন বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
ছবি: Yakafaucon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)