খামারে উঁচুতে কাজের ঝুঁকি নিয়ে ৫ অক্টোবর থেকে চার সপ্তাহের দেশব্যাপী পরিদর্শন অভিযান শুরু করেছে আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (এইচএসএ), জানিয়েছে অ্যাগ্রিল্যান্ড। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল, এই দশ বছরে দেশটির খামারে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ২১টি উঁচু থেকে পড়ে।
এইচএসএর জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক জেরার্ড হার্টনেট (Gerard Hartnett) বলেন, ‘উঁচু থেকে পড়া ভয়াবহ হতে পারে, এতে জীবন বদলে দেওয়া গুরুতর আঘাত এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।’ তাঁর মতে, উঁচুতে যেকোনো কাজের আগে ঝুঁকি যাচাই করতে হবে। প্রায়ই ‘ঝটপট সেরে ফেলার’ ছোট কাজেই মানুষ বিপদে পড়েন।
এইচএসএর হিসাবে প্রধান বিপদগুলো হলো মই থেকে পড়া, ছাদ বা অন্য কাঠামোর অরক্ষিত কিনারা থেকে পড়া, ভঙ্গুর ছাদ ভেঙে পড়া এবং খড়ের গাদার ওপর থেকে পড়া। ছাদে ওঠার আগে কৃষকদের দেখে নিতে হবে ছাদটি ভঙ্গুর কি না, মানুষের ভার সইতে পারবে কি না। যেসব অংশ সহজে ভেঙে বা ফেটে যেতে পারে, সেগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
খড়ের গাদার ওপর না উঠে উপযুক্ত যন্ত্র দিয়ে দক্ষ কাউকে দিয়ে খড়ের আঁটি নামাতে হবে, আর শিশুদের কোনোভাবেই খড়ের গাদার ওপর খেলতে দেওয়া যাবে না। পরিদর্শকেরা কৃষকদের নিরাপদ কাজের পরিকল্পনা করতে এবং চলমান উঁচু কর্মমঞ্চ, কাজের প্ল্যাটফর্ম বা কিনারায় সুরক্ষা বেষ্টনীর মতো ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেবেন।
খামারে নির্মাণকাজের দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে এইচএসএর নির্দেশিকার কথাও তুলে ধরবেন পরিদর্শকেরা, কারণ আইনে কাঠামো মেরামতও নির্মাণকাজ হিসেবে গণ্য হয় এবং কাজ শুরুর আগেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়োগ দিতে হয়। হার্টনেট সতর্ক করেন, ঝড় ও আবহাওয়ার পরিবর্তনে খামারের ঘর মেরামতের কাজ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রয়োজনে উপযুক্ত যন্ত্রপাতিসহ দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
ছবি: Bill Boaden / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)