বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমণ মোকাবিলা না করলে উত্তর আয়ারল্যান্ডে গরুর যক্ষ্মা (বোভাইন টিবি) নির্মূল করা যাবে না বলে মনে করে সেখানকার কৃষক সংগঠন আলস্টার ফার্মার্স ইউনিয়ন (ইউএফইউ)। অ্যাগ্রিল্যান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের (ডিএইআরএ) ‘গরুর যক্ষ্মা নির্মূলের নীলনকশা’র আওতায় বন্যপ্রাণী বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে চলা পরামর্শে সংগঠনটি তাদের মত জমা দিয়েছে।
ইউএফইউর উপসভাপতি ক্লেমেন্ট লিঞ্চ (Clement Lynch) বলেন, ‘কৃষকেরা কয়েক দশক ধরে গবাদিপশুর ওপর ক্রমেই কড়া হওয়া নিয়ন্ত্রণ মেনে চলছেন, তবু নির্মূলের পথে যতটা অগ্রগতি দরকার, তা হচ্ছে না। ইউএফইউর অবস্থান পরিষ্কার: বন্যপ্রাণী নিয়ে পদক্ষেপ অপরিহার্য।’
লিঞ্চের মতে, যেকোনো পদক্ষেপ হতে হবে প্রমাণভিত্তিক, বাস্তবসম্মত, সাশ্রয়ী এবং প্রয়োজনীয় মাত্রায় বাস্তবায়নযোগ্য। ইউএফইউ, ডেইরি কাউন্সিল ফর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও লাইভস্টক অ্যান্ড মিট কমিশনের করানো গবেষণায় দেখা গেছে, এই রোগে অঞ্চলের কৃষকদের পরোক্ষ ক্ষতি বছরে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। সরকারি বিভাগের সরাসরি ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় বছরে প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড।
এই অঙ্কের পেছনে আছেন সেই কৃষকেরা, যাঁদের বারবার পরীক্ষা, পশু চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, উৎপাদনশীল পশু হারানো আর খামারে সংক্রমণের দুশ্চিন্তা সামলাতে হয়, বলেন লিঞ্চ। তিনি কৃষকদের ব্যক্তিগতভাবেও পরামর্শে মত দেওয়ার আহ্বান জানান।
গত বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত সরকারি নীলনকশায় বলা হয়েছে, রোগটি মূলত মাইকোব্যাকটেরিয়াম বোভিস (Mycobacterium bovis) জীবাণুর কারণে হয় এবং এটি জটিল একটি প্রাণিবাহিত (জুনোটিক) রোগ, অর্থাৎ পশু থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। মূলত গরুর রোগ হলেও নানা খামারের পশু ও বন্যপ্রাণীও এতে আক্রান্ত হয়। ১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে নির্মূল কর্মসূচি চলছে। নীলনকশা অনুযায়ী, ইউরোপীয় আইনে বাধ্যতামূলক এই কর্মসূচির ওপরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে অঞ্চলটির পশুসম্পদ বাণিজ্য নির্ভর করে।
ছবি: Ardfern / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)