সকালের নাশতা শুধু শক্তি জোগায় না, পরের কয়েক ঘণ্টার রক্তে শর্করার মাত্রাকেও প্রভাবিত করতে পারে, তাই ডায়াবেটিস থাকলে নাশতায় কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। আমার দেশের স্বাস্থ্য পাতার এক লেখায় বলা হয়েছে, ডায়াবেটিসে কার্বোহাইড্রেট পুরো বাদ দেওয়ার দরকার নেই; বরং ঠিক ধরনের কার্বোহাইড্রেট বেছে নেওয়া, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (এনআইডিডিকে) খাবারের পরিমাণ ও কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণে 'প্লেট পদ্ধতি' অনুসরণের পরামর্শ দেয়। এতে ৯ ইঞ্চির একটি প্লেটকে তিন ভাগে ভাবা হয়: অর্ধেকজুড়ে কম-শ্বেতসারের সবজি, যেমন শসা, টমেটো, লাউ, পালংশাক, ফুলকপি বা বাঁধাকপি; এক-চতুর্থাংশে প্রোটিন, যেমন ডিম, মাছ, চামড়া ছাড়া মুরগি, ডাল বা টফু; আর বাকি এক-চতুর্থাংশে লাল বা পূর্ণ শস্যের রুটি, ওটস বা ভাতের মতো শস্যজাত খাবার।
এভাবে খাবারের পরিমাণ সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং একবারে বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ঝুঁকি কমে। আঁশযুক্ত খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কমাতে পারে।
লেখায় নাশতার কয়েকটি সহজ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে: একটি সেদ্ধ ডিম, এক টুকরো আটার রুটি ও শাকসবজি; চিনি ছাড়া ওটসের সঙ্গে টক বা সাধারণ দই, অল্প গোটা ফল ও বাদাম; দুধের সঙ্গে চিনি ছাড়া গোটা শস্যের সিরিয়াল; কিংবা গোটা শস্যের রুটির সঙ্গে ডিম বা অল্প স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার। চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকা খাবার সীমিত রাখা ভালো, কারণ এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
তবে কার কতটুকু খাবার দরকার, তা বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, ওষুধ এবং রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর নির্ভর করে বলে লেখায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ছবি: Ted O-Rama / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)