জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পর রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েনি। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কাপ্তান বাজার, নবাবগঞ্জ বাজার, ইসলামবাগ ও লালবাগের বাজার ঘুরে এবং সরকারি বাজারদরের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, চাল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, চাষের মাছ ও সবজি—বেশির ভাগ পণ্যই আগের চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দাম এখনো সরবরাহ ও উৎপাদন পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে।
খুচরায় মোটা চাল কেজি ৫০-৫২ টাকা, বিআর-২৮ ৫২-৫৫, মিনিকেট ৭০-৭৮ এবং নাজিরশাইল ৭৫-৮৮ টাকা। দেশি ভাঙা মসুর ১১৮-১২৫, দেশি আস্ত মসুর ১৪৮-১৫৬ এবং আমদানি করা সাধারণ মসুর ৯০-৯৬ টাকা কেজি।
প্রায় দেড় মাস ধরে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০-২০০ টাকায়, যা দেড় মাস আগে ছিল প্রায় ২০ টাকা কম এবং কয়েক মাস আগে ১৪০-১৫০ টাকায়ও নেমেছিল; সোনালি ৩৪০-৩৬০ এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড ৩০০-৩৩০ টাকা। ফার্মের বাদামি ডিম ডজন ১৫০ টাকা, সাদা প্রায় ১৪০ টাকা। কাপ্তান বাজারের এক বিক্রেতার ভাষ্য, গরম, অতিবৃষ্টি ও কিছু এলাকায় বন্যায় খামারে উৎপাদন কমায় সরবরাহ কম, তাই দাম নামছে না।
মাছেও দাম চড়া: আড়াই-তিন কেজির রুই ৪০০-৪২০, কাতলা ৪২০-৪৪০, পাঙাশ ২৫০-৩০০, তেলাপিয়া ২৫০-২৮০, পাবদা ৪০০-৪৫০ এবং আকারভেদে ইলিশ ৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা কেজি। তিন মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি চাল—চিনিগুড়া ও আতপ ৯০-১০০ থেকে ১৭০-২০০ টাকা, আর মানভেদে ১২০ টাকার চাল ২২০-২৩০ টাকা; ব্যবসায়ীদের মতে ৬১ হাজার টন চাল রপ্তানির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম বেড়েছে।
টিসিবির তথ্যে এক মাসে খোলা আটা কেজিতে ৩ টাকা এবং খোলা ও প্যাকেট ময়দা প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে; এই অজুহাতে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আপাতত স্থগিত এবং উৎপাদন ব্যয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি কাজ করছে।
সবজিতে গোল বেগুন ও গাজর ১৪০, কাঁচা মরিচ ১৬০, বরবটি ১২০, লম্বা বেগুন ও টমেটো ১০০, পটল-ঝিঙা-ধুন্দল-চিচিঙ্গা-করলা-শসা ৮০, কচু, মিষ্টি কুমড়া ও ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা কেজি; সবচেয়ে সস্তা পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ পিস ৪০-৬০ এবং কাঁচকলা হালি ৪০ টাকা। লালবাগের এক ক্রেতা বলেন, মুরগি-ডিমের দাম কমছে না, মাছও চড়া—সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনটি রাইজিংবিডির নিজস্ব প্রতিবেদকের।
সূত্র: রাইজিংবিডি





মন্তব্য
(০)