কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের চোঁয়ার ফাঁড়ি মাছের বাজারে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা—মাত্র তিন ঘণ্টায়—প্রায় ৫ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। খাল দিয়ে ঘাটে ভেড়ে শতাধিক মাছভর্তি নৌকা; ২৪টি আড়ত ও স্থানীয় জেলেদের বিক্রি মিলিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের নানা প্রান্তের পাইকার ও ক্রেতারা এখানে আসেন।
গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ছয়টায় দেখা যায়, নৌকা ভিড়লেই ক্রেতারা ছোটেন; কেউ জেলেদের কাছ থেকে সরাসরি কেনেন, কেউ মাছ তুলে দেন আড়তদারদের কাছে, যাঁরা নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রি করেন। ইলিশ, কোরাল, বাটা, ট্যাংরা, বাগদা-গলদাসহ নানা চিংড়ি, দাতিনা, পাঙাশ, রুই, কাতলা, পাবদা, নাইলোটিকা, মৃগেল—বেশির ভাগই বরফ ছাড়া তাজা, যা এই বাজারের আলাদা পরিচিতি।
বাজারের ২৪টি আড়তের প্রতিটিতে দিনে গড়ে ২০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়—মোট প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা; স্থানীয় জেলেদের আলাদা বিক্রি আরও ২০ লাখ টাকার বেশি। আড়তদারেরা মাছ মেপে বিক্রি করে দেওয়ার বিনিময়ে কেজিতে ১০ টাকা কমিশন পান বলে জানান আড়তদার শওকতুল ইসলাম। আড়তমালিক প্রায় ১০০ জন ও কর্মচারী প্রায় ১৫০ জন—অন্তত ২৫০ জনের কর্মসংস্থান।
চট্টগ্রামের স্কুলশিক্ষক নুরুল কবির চারটি ইলিশ কিনেছেন ৪ হাজার টাকায়, যা শহরে অন্তত ৭ হাজার টাকা লাগত বলে জানান তিনি; তাঁর বন্ধু আইনজীবী সাইফুল ইসলাম পাঁচ কেজি বাগদা কিনেছেন ৪ হাজার ৪০০ টাকায়। কক্সবাজার শহরের নবিউল আলম বোনের বিয়ের জন্য ৩০ কেজি চিংড়ি ৪৫ হাজার টাকায় এবং দুই কেজি ওজনের পাঁচটি কোরাল সাড়ে ১২ হাজার টাকায় কিনেছেন।
চকরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ একরের চিংড়ি জোন রয়েছে, যার বেশির ভাগ মাছ এই বাজারে আসে; নামে চিংড়ি জোন হলেও কোরাল, বাটা, ট্যাংরাও চাষ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৫০-এর দশকে জলদাস সম্প্রদায়ের জেলেরা চকরিয়া সুন্দরবনের মাছ এনে এখানে বিক্রি শুরু করেন; পরে সুন্দরবন ইজারা দিয়ে ঘের হওয়ার পর বাজার বড় হয়েছে।
এবার জুলাইয়ের বন্যায় অনেক ঘেরের বাঁধ ভেঙে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কম, তাই দাম কিছুটা বেশি বলে জানান জেলেরা। জেলে আবুল হাশেমের হিসাবে ছোট কোরাল ৬০০-৯০০ টাকা, বড় কোরাল ১,২০০-১,৩০০ টাকা, ছোট ইলিশ ৯০০-১,০০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১,৮০০-২,০০০ টাকা কেজি। মাতামুহুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন বলেন, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের বাজার এটি। প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর এস এম হানিফের।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)