জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল টাঙানো শেডের নিচে প্রতিদিন বসছে করলার পাইকারি বাজার। এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়; তবু এখানে দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা কেনাবেচা হয়, আর প্রায় ১৫ বছর ধরে গ্রামের এই জায়গাটি করলার পাইকারি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
দুপুর থেকে কৃষকেরা জমি থেকে তোলা করলা সরাসরি নিয়ে আসেন পাইকারদের কাছে; বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বর্তমানে পাঁচ-ছয়জন পাইকারি ক্রেতা এখানে করলা কিনছেন, আর পরদিন সকালে পিকআপে করে তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাছাই করা করলা ব্যাগ ও ক্রেটে ভরা হচ্ছিল, পাশে অপেক্ষায় ছিল পিকআপ।
কৃষকেরা জানান, সবচেয়ে কাছের চৌমুহনী হাট গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এবং সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—শনি ও মঙ্গলবার—বসে; ক্ষেতলাল পৌরসভার ইটাখোলা হাট প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। গ্রামের বাজারে বিক্রি করায় হাটের অপেক্ষা করতে হয় না, সময় বাঁচে এবং পরিবহন খরচও লাগে না।
গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন; সাপ্তাহিক হাটে নিতে হলে তাঁর খরচ বাড়ত বলে জানান তিনি। বগুড়া শহরের পাইকারি ক্রেতা বাবু মণ্ডল বলেন, তিনিসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী এখান থেকে নিয়মিত করলা কিনে নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলামের ভাষ্য, আশপাশের গ্রামের মাঠে করলার চাষ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে পাইকারেরা এখানে কেনা শুরু করেন; কৃষক ও করলার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে জায়গাটি বাজারে পরিণত হয়েছে।
ক্ষেতলাল উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ জানান, উপজেলায় এবার ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে, আর বাখেরা কোমলগাড়ীর দৈনিক বাজারে কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর জয়পুরহাট প্রতিনিধির।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)