নারকেলের ছোবড়াকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দিয়ে আধুনিক কৃষির উপকরণে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়নের আনসার-ভিডিপি সদস্য মো. রবিউল ইসলাম। ছোবড়া প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট বা কোকোডাস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি মাটিবিহীন চারা উৎপাদন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন।
ছোবড়া থেকে আঁশ আলাদা করার পর যে পিথজাতীয় অংশ থাকে, সেটি কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে কোকোপিট বানাচ্ছেন তিনি। আধুনিক কৃষিতে কোকোপিট উদ্ভিদ বৃদ্ধির সহায়ক মাধ্যম বা গ্রোয়িং মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হয়—বিশেষ করে প্রো-ট্রে বা ট্রে পদ্ধতিতে টমেটো, মরিচ, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা ও লতাজাতীয় সবজির মানসম্মত চারা তৈরিতে। হালকা ও পানি ধারণক্ষম হওয়ায় শিকড়ের বিকাশে উপযোগী, আর মাটিবিহীন হওয়ায় প্রচলিত নার্সারির মাটিবাহিত রোগের ঝুঁকিও কমে।
উদ্যোগটির বিশেষত্ব ছোবড়ার বহুমুখী ব্যবহার: একদিকে প্রচলিত পদ্ধতিতে আঁশ, দড়ি বা রশি, অন্যদিকে অবশিষ্টাংশ থেকে কোকোপিট। কৃষিজ উপজাতের পুনঃব্যবহারে এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উদ্যোগের দৃষ্টান্ত এবং স্থানীয় সহজলভ্য কাঁচামাল থেকে আধুনিক কৃষির উপকরণ তৈরি করায় স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা রাখে।
বাংলাদেশে কোকোপিটভিত্তিক আধুনিক নার্সারি ও চারা উৎপাদন বাড়ছে; যশোর জেলায় এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা রবিউল ইসলামের উদ্যোগ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা পেলে উদ্যোগটি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ





মন্তব্য
(০)