দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ আয়োজনে নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়; মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ৮–৯ ডলার থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, তাতে উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থায়ী সমাধানে সরকার রোদ, বাতাস ও পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে; সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়া ও বিদ্যুৎ ঘাটতিতে কৃষকের সেচ ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়ে—এ কারণেই বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে ঘাটতি ও চড়া ডিজেলের মধ্যেও কৃষক সাশ্রয়ী খরচে সেচ দিতে পারেন। যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে একটি সৌরচালিত পাম্পে এরই মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে; অর্থের সংস্থান হবে সরকারের নিজস্ব বাজেট বা বৈদেশিক সহায়তা থেকে। বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী অংশ নেন।
বোরো মৌসুমে দেশের সেচের বড় অংশ ডিজেল ও গ্রিডের বিদ্যুতে চলে; গ্যাসের চড়া দাম ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে ঘোষণাটি এলে তা কার্যকর হলে সেচের খরচ ও বিদ্যুতের চাপ—দুই দিকেই প্রভাব ফেলবে।
বাসসের প্রতিবেদন অবলম্বনে, দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত। সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)