সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩১°মেঘলাআর্দ্রতা ৫৭%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চাক‌রি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুল মাঠে পাট চাষ

কথা ছিল স্কুলে জ‌মি দিলে প‌রিবারের একজনকে দপ্ত‌রির চাক‌রি দেওয়া হবে। কিন্তু জ‌মি বুঝে নেওয়ার প্রায় দুই বছরের বে‌শি সময় অ‌তিবা‌হিত হলেও চাক‌রি না দেওয়ায় ক্ষোভে স্কুল মাঠে নিজেদের অং‌শের জ‌মিতে পাট চাষ করেছেন মো. কালাম খান নামে এক ব্যক্তি। এতে বিদ

কথা ছিল স্কুলে জ‌মি দিলে প‌রিবারের একজনকে দপ্ত‌রির চাক‌রি দেওয়া হবে। কিন্তু জ‌মি বুঝে নেওয়ার প্রায় দুই বছরের বে‌শি সময় অ‌তিবা‌হিত হলেও চাক‌রি না দেওয়ায় ক্ষোভে স্কুল মাঠে নিজেদের অং‌শের জ‌মিতে পাট চাষ করেছেন মো. কালাম খান নামে এক ব্যক্তি। এতে বিদ্যালয়‌টির ‌স্বাভা‌বিক কার্যক্রমসহ ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের খেলার প‌রিবেশ।

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতন‌দিয়ার মুরারিখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা‌ ঘটেছে।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দা‌বি, পাট ক্ষেতের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পা‌রছে না এবং পোকামাকড়ের ভয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে দ্রুত তারা পাট ক্ষেত অপসারণ চান।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ ৬৮ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের বরাদ্দ আসে। কিন্তু বিদ্যালয়ের এক পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকায় বাউন্ডারি সোজা করা নিয়ে বিপাকে পড়ে কর্তৃপক্ষ।

পরে তৎকালীন এমপি মো. জিল্লুল হাকিম, উপজেলা চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটো, ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন নিলুফা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জমির দাবিদার কালাম খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার ছেলেকে বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে মৌখিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রায় ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। চাকরি হলে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথাও ছিল।

কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ আড়াই বছর পার হলেও চাকরি না পাওয়ায় বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে থাকা নিজেদের জমিতে আবার চাষাবাদ শুরু করেন কালাম খান।

এদিকে কালাম খান নিজেকে জমির মালিক দাবি করলেও প্রকৃত মালিক হিসেবে সাহেব আলীর নাম উঠে এসেছে। তারা সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মাঠের এক পাশে পাটক্ষেত থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও চলাফেরার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে পাটক্ষেত থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ও ঘোরাফেরা করতে পারছে না। সবসময় পোকামাকড়ের ভয় থাকে। তাই দ্রুত বাউন্ডারির ভেতর থেকে পাটক্ষেত অপসারণের দাবি তাদের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার খানম বলেন, বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বাউন্ডারি সোজা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পাশের জমির প্রায় ১১-১২ শতাংশ ব্যবহার করে দেয়াল নির্মাণ করেন। তবে কী শর্তে জমি নেওয়া হয়েছিল, তা জানি না। জমি তখন রেজিস্ট্রিও করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি আগায়নি। জমির মালিকরা শুরু থেকেই সেখানে চাষাবাদ করতেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বাধা দেয়নি, কারণ সেটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি নয়। তবে বাউন্ডারির ভেতরে ফসলের ক্ষেত থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি চান জমিটি বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হোক।

জমির দাবিদার কালাম খান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে জমি দিতে অনুরোধ করেছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এমপির নির্দেশেই এটি করা হচ্ছে। বহু আলোচনার পর তার ছেলেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে জমি ব্যবহারে সম্মতি দেন।

তিনি বলেন, তখন বাধা দিলেও দ্রুত কাজ শেষ করার কথা বলে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়। তাকে বলা হয়েছিল, আপাতত জমি রেজিস্ট্রি করা হবে না, চাকরি হলে পরে সব সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু দুই-আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও চাকরি হয়নি। তাই তিনি জমিতে আবার চাষাবাদ শুরু করেছেন।

কালাম খানের দাবি, হয় তার ছেলের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে, না হলে জমির পরিবর্তে অন্যত্র সমপরিমাণ জমি কিনে দিতে হবে। অন্যথায় বাউন্ডারি ভেঙে তার জমি বুঝিয়ে দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলেকে ঢাকার চাকরি থেকে ফিরিয়ে এনে এখন ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

কালুখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বাউন্ডারি সমান ও সোজা করার জন্য তৎকালীন এমপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আলোচনা করে পাশের জমি অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করেন। পরে জমির মূল্য পরিশোধ বা রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় মালিকপক্ষ আবার জমির দখল নেয় এবং চাষাবাদ শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি স্থাপনা অবশ্যই সরকারি জমির ওপর নির্মাণ করতে হয়। কিন্তু সে সময় রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রুবেলুর রহমান/এনএইচআর/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

দুই মাস বৃষ্টি নেই, নোয়াখালীতে ফেটে চৌচির আমনখেত, শুকিয়ে যাচ্ছে ধান

মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিতে এক মাস পিছিয়ে যাওয়া আমন এখন খরায় পুড়ছে; সুবর্ণচর, সদর ও কোম্পানীগঞ্জে কয়েক হাজার একরের ধানগাছ ফলন আসার আগেই শুকিয়ে গেছে।

আজকের পত্রিকা২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

টিকটক-ইউটিউবে খেতের ভিডিও, ভুটানের তরুণদের কৃষিতে টানছেন দুই নারী

নিক্কেই এশিয়ার খবর: পারোর সোনাম জাম পপ ও বাজোর পাসাং ওম রোজকার কৃষিকাজের ভিডিও দিয়ে হাজারো দর্শক পাচ্ছেন, যখন গ্রাম ছাড়ছেন ভুটানের তরুণেরা।

আজকের পত্রিকা২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

ফলন নয়, কৃষকের হাতে কত টাকা থাকল সেটাই আসল পরীক্ষা: অধ্যাপক মোজাম্মেল হক

নয়া দিগন্তে ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের কলাম: কৃষকের ন্যায্য দাম, দরকষাকষির শক্তি, দুর্যোগে সুরক্ষা, প্রকৃত চাষির হাতে ঋণ-ভর্তুকি আর গ্রামের শিক্ষা-চিকিৎসাকে কৃষিনীতির কেন্দ্রে আনার আহ্বান। মত লেখকের নিজের।

নয়া দিগন্ত২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)