ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে ভারতের খরিফ মৌসুমের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস বইছে, বৃষ্টির শঙ্কা উত্তরেও ছড়িয়েছে, জানিয়েছে রুরাল ভয়েস। ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে, বৃষ্টি ছড়িয়েছে ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে। মাঠের ফসল, খোলা জায়গায় কেটে রাখা ধান এবং চলমান ধান কাটা, সবই ঝুঁকিতে।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার কথা। তবে ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ১৩টি জেলা ও ইয়ানামের কিছু অংশে আকস্মিক বন্যার মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকির কথা বলেছে অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের জলীয় বাষ্প একটি পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে মিশে দিল্লি-এনসিআর, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে বৃষ্টি ঝরাতে পারে। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দিল্লি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে বজ্রঝড়, ঝোড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টির এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে আইএমডি। হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে এখন সরকারি ধান সংগ্রহ চলছে, আখ কাটাও শুরু হচ্ছে। বৃষ্টিতে ফসল কাটা, পরিবহন ও সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে, আর ভেজা ধান সংগ্রহকেন্দ্রে নেওয়ার আগে বাড়তি শুকাতে হতে পারে।
উত্তরপ্রদেশে অক্টোবরের শুরুর বৃষ্টিতে এমনিতেই আখ মাড়াই শুরু হতে দেরি হয়েছে। আরও বৃষ্টি হলে চিনিকলে আখ পৌঁছাতে আরও দেরি হতে পারে।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে ওডিশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের কাটার উপযোগী ধান। ভারী বৃষ্টি ও বাতাসে ধানগাছ হেলে পড়তে পারে, এতে ধান কাটা কঠিন হয় এবং দানা নষ্টের ঝুঁকি বাড়ে। খোলা জায়গায় কেটে রাখা ধান ভিজে গেলে মান নষ্ট হতে পারে। তুলা, সয়াবিন, ভুট্টা ও ডাল ফসলেরও ক্ষতি হতে পারে।
ছবি: Trocaire / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)