কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্ল্যারেশোমে ক্রস ক্যাটল কোম্পানি (Cross Cattle Company)-তে গরু বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই। হাতে কতটা ঘাস ও খাবার আছে আর বাজার কোথায়, তা দেখে পরিবারটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। ডিটিএনের জ্যেষ্ঠ প্রাণিসম্পদ সম্পাদক জেনিফার ক্যারিকো এক বছর ধরে খামারটির কাজ অনুসরণ করা ধারাবাহিকের নতুন পর্বে এ কথা জানিয়েছেন।
ভাই ম্যালকমের সঙ্গে খামার চালান অস্টিন ক্রস। তিনি বলেন, "দুধ ছাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমরা বাছুর বেচি না, এক মাস পরেও না। যতক্ষণ ঘাস আছে, ততক্ষণ ঘাসে রাখি, খাওয়াই, যতক্ষণ না বাজার ঠিক মনে হয়।"
সব এঁড়ে বাছুর খাসি করা হয়, আর হিসাব মিললে বিক্রি হয়। কানাডার খামারিদের রপ্তানি বাজারেও নজর রাখতে হয়, কারণ কিছু বাছুর মোটাতাজা করতে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যায়। পরিবারটি ফিউচার্স বাজার দেখে বোঝে বসন্তে দাম এতটা বাড়বে কি না যে গরু আরও কিছুদিন রাখা লাভজনক। চারণভূমিতে কত গরু রাখা যায়, তাও হিসাবে ধরা হয়। স্থানীয় হাটের সঙ্গে মিলে কাজ করে তারা। ষাঁড় সাধারণত ভিডিও নিলামে বিক্রি হয়, তাতে গরু সরাসরি ক্রেতার কাছে যায়, ধকল কম হয়। এ কারণেই ক্রেতারা বারবার ফেরেন।
আগে রাখার উপযোগী নয় এমন বকনা মোটাতাজাকরণ খামারে পাঠানো হতো। এক ক্রেতা সেগুলোর মান দেখিয়ে দেওয়ার পর এখন সব বকনাকে পাল দেওয়া হয়। নিজেদের পালের জন্য যতগুলো দরকার রেখে বাকিগুলো গর্ভবতী অবস্থায় বিক্রি হয়, বছরে ৫০ থেকে ১৫০টি। শরতে গর্ভ পরীক্ষার পর বাছাই করে কিছু গাভি বাদ দেওয়া হয়। অস্টিন বলেন, এবার সেই বাজার ভালো বলে তিনি একটু বেশি গাভি বাদ দিয়েছেন, তাই বেশি গর্ভবতী বকনা রাখছেন আর বিক্রি করছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি।
তাঁর মতে, কানাডায় মোটাতাজাকরণ খামার কম, স্বাধীন খামারিও কম। তাই ক্রেতা যা চান তা জোগাতে হয়, আবার নিজেদের পালের জন্য ভালো বকনাও তৈরি করতে হয়। জাত বাছাইয়ে তাঁরা মাংসের মান আর চেহারা দুটোই দেখেন। আলবার্টার পাহাড়ি উপত্যকায় যথেষ্ট ঘাস থাকলে বাজারজাতকরণের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়, বলেন তিনি।
ছবি: WBRA Jen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)