কম পানিতে ভুট্টা ও গম চাষের যে দাবিগুলো প্রচলিত, তার বড় অংশের পেছনে যথেষ্ট প্রমাণ নেই, বলছে নেদারল্যান্ডসের ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাকেন্দ্রের (Wageningen University & Research) এক মেটা-গবেষণা। ১৯৮৩ সাল থেকে করা ২০৮টি মাঠ পরীক্ষার মাত্র ১০ শতাংশে ফসলের পানির উৎপাদনশীলতা ঠিকভাবে যাচাইয়ের মতো তথ্য ছিল।
পানির উৎপাদনশীলতা মানে বাষ্পীভূত প্রতি একক পানিতে ফসলের ফলন। শতাব্দীর শুরুর দিকে এ নিয়ে আগ্রহ বাড়ে, আর মাপা পার্থক্যের ভিত্তিতে দাবি ওঠে কৃষিতে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পানি বাঁচানো সম্ভব। গবেষকেরা দেখেছেন প্রতিটি গবেষণায় জৈববস্তুর তথ্য আছে কি না, জৈববস্তু ও গাছের প্রস্বেদনের সম্পর্ক যাচাই করা যায় কি না, আর পানির হিসাব নির্ভুল কি না।
ফল হতাশাজনক: ২০৮টির মধ্যে ১৬০টিতে (৭৭ শতাংশ) জৈববস্তুর তথ্যই নেই, আরও ২৭টিতে বৃষ্টি বা সেচের হিসাব ঠিকমতো না করা সরল পানি-হিসাব। নির্ভরযোগ্য তথ্য মিলেছে মাত্র ২১টিতে, ভুট্টার ১১টি ও গমের ১০টি। সেগুলোতে পানির উৎপাদনশীলতার ভিন্নতা আগের ধারণার চেয়ে অনেক কম; গবেষকদের মতে, আগে জানানো পার্থক্যের বড় অংশ পরীক্ষার ভুলের কারণে, ফসলের আসল পার্থক্যে নয়।
এটি ১৯৫৮ সালে ভাগেনিঙেনের গবেষক সি. টি. দে ভিটের দেখানো সম্পর্কেরই প্রতিধ্বনি: ফসলের বৃদ্ধি বাষ্পীভূত পানির সঙ্গে সরলরেখায় বাড়ে। ভালো পুষ্টি, মাটি ঢেকে বাষ্পীভবন কমানো আর পানির চাপ সামলানোর কৌশলে এ সম্পর্ক কিছুটা বদলানো যায়, তবে সুযোগ সীমিত। প্রধান লেখক জেরার্দো ফান হালসেমা বলেন, বেশি খাদ্য উৎপাদনে বেশি পানিই লাগবে; খবরটি উৎসাহব্যঞ্জক নয়, কিন্তু পানিসম্পদ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষক দলটি মাঠ পরীক্ষা ও প্রকাশনার জন্য কড়া ও অভিন্ন মানদণ্ড প্রস্তাব করেছে, বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর ও সেচের চাষে জৈববস্তু ও প্রস্বেদন আরও নির্ভুলভাবে মাপা, যাতে ভবিষ্যতের গবেষণা যাচাই ও তুলনা করা যায় এবং ভুট্টা ও গমে পানি সাশ্রয়ের আসল সুযোগ বোঝা যায়।
ছবি: Isl@m (ফ্রান্সের ওত-মার্নে খরায় ভুট্টাখেত) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Wageningen University & Research





মন্তব্য
(০)