সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৮%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

মহাবিপন্ন চালমুগরা: দেশের বনে টিকে আছে ১০০টিরও কম গাছ

আইইউসিএন ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের ২০২৪ সালের রেড লিস্টে মহাবিপন্ন তালিকায় ওঠা চালমুগরা বা ডালমুগরি এখন মাত্র ১০টি প্রাকৃতিক আবাসে টিকে আছে, প্রতিটিতে গড়ে পাঁচটির কম গাছ।

মহাবিপন্ন চালমুগরা: দেশের বনে টিকে আছে ১০০টিরও কম গাছ
পরিবেশ

পাহাড়ি বনের সুদর্শন বৃক্ষ চালমুগরা (Hydnocarpus kurzii), যার আরেক নাম ডালমুগরি, এখন মহাবিপন্ন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম ও আইইউসিএন প্রকাশিত রেড লিস্টে গাছটিকে মহাবিপন্ন উদ্ভিদের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন প্রথম আলোয় গাছটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন।

বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও মৌলভীবাজারের কিছু বনে মোট ১০টি স্থানে প্রাকৃতিক আবাসে গাছটির টিকে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের সর্বশেষ জরিপে প্রতিটি স্থানে মাত্র ১ থেকে ৩টি পূর্ণবয়স্ক গাছ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক আবাসে গাছের সংখ্যা ১০০-র কম, গড়ে প্রতিটি স্থানে পাঁচটির নিচে, যা 'অত্যন্ত বিপন্ন' বিবেচনার নির্ধারিত সূচকের চেয়েও অনেক কম। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতে গত ১০ বছরে প্রজাতিটির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমেছে।

দ্রুত বিলুপ্তির প্রধান কারণ বীজের অতিরিক্ত আহরণ। চালমুগরার বীজের তেল কুষ্ঠ ও অন্যান্য চর্মরোগের লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, তাই বন থেকে বীজ তুলে নেওয়া হয়। তার ওপর গাছটির প্রাকৃতিক বংশবৃদ্ধির হারও খুব কম।

গাছটি দেখা যায় বান্দরবানের পলি ও রেমাক্রি প্রাংসায়; চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাজারীখিল, বারোইয়াধলা ও ধোপাছড়িতে; কক্সবাজারের ভোমারিঘোনায়; খাগড়াছড়ির আলুটিলার কাছে; রাঙামাটির রামপাহাড়, দামাইছড়ি, ফারুয়া, কাসালং-মাসালং ও পাবলাখালীতে; এবং মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ও শ্রীমঙ্গলে। সম্প্রতি কয়েকটি স্থানে গাছটি রোপণও করা হয়েছে, আর ঢাকার মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও চালমুগরা আছে।

চালমুগরা চিরসবুজ মাঝারি আকারের বৃক্ষ, ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। কাণ্ড সরল, গোলাকার ও সোজা; বাকল মসৃণ, পুরু, সবুজাভ ধূসর। পাতা পুরু ও ভল্লাকার, আগা সুচালো, দুই পাশ ঢেউখেলানো, রং গাঢ় সবুজ। গ্রীষ্ম থেকে বর্ষায় হালকা হলুদ সুগন্ধি ফুল কখনো একা, কখনো থোকায় ফোটে; হেমন্তে পাকে গোলাকার, শক্ত, পুরু ও বাদামি ফল, ভেতরে থাকে কয়েকটি বীজ।

গাছটি আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জন্মাতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর বছরে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় এমন জায়গায় ভালো বাড়ে। পূর্ণ রোদ বা হালকা ছায়া দুটোই সয়, প্রায় সব মাটিতে জন্মায়, তবে সুনিষ্কাশিত বেলে-পলি মাটিতে বৃদ্ধি ভালো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় গাছটির চাষও হয়।

প্রতিবেদন: মোকারম হোসেন, প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক, প্রথম আলো।

ছবি: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে চালমুগরা গাছ, Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

চট্টগ্রামের বর্জ্য থেকে দিনে ১২-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: জাপানি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় করা সমীক্ষা অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের দিনে প্রায় ১,০০০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব; জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্পে আগ্রহ জানিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

দৈনিক আজাদী২৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মতামত

পাহাড় কেটে পাহাড়ের সৌন্দর্য বিক্রি টেকসই নয়: উন্নয়নে প্রকৃতি ধ্বংসের দাম নিয়ে এক গবেষকের লেখা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের পিএইচডি গবেষক রাকিব হোসেন ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, সেন্টমার্টিন থেকে সাদাপাথর ও ঢাকার জলাশয়, উন্নয়নের হিসাবে হারানো প্রকৃতির দাম ধরা হয় না; প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্রকৃত সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয় ধরার দাবি তাঁর।

ঢাকা পোস্ট২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা আছে, বাস্তবায়ন নেই: ইউরোপ-জাপানের শিক্ষা নিতে বললেন এক গবেষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টে লিখেছেন, দেশের ৯৭ শতাংশ ই-বর্জ্য সংগ্রহ অনানুষ্ঠানিক খাতে; উৎপাদকের দায়বদ্ধতা, দোকানে পুরোনো যন্ত্র ফেরত আর জাতীয় তথ্যব্যবস্থা চান তিনি।

ঢাকা পোস্ট২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)