সুন্দরবনের কটকায় "বাঘের বাড়ি" নামে পরিচিত টাওয়ারের পাশে বুনো ফুলে সিঁদুরে লাল আর কালো রঙের এক প্রজাপতির ছবি তুলেছেন পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. আ ন ম আমিনুর রহমান। সমকালে তিনি লিখেছেন, এটি এ দেশের বিরল ও বিপন্ন প্রজাপতি সিঁদুরী পদ্মরাগ।
২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সোয়া ৮টার দিকে টাওয়ারের পাশে বরই ও অন্যান্য বুনো গাছের ফুলে প্রজাপতিটি দেখেন তিনি। কটকায় এর আগেও কয়েকবার দেখেছেন, প্রথমবার ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। এ বছরের ১৬ অক্টোবর আবার দেখেছেন কুয়াকাটা সৈকতের লেম্বুর বনে। একই সফরে খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেকে বড় গেছো প্যাঁচা আর সুন্দরী শিসমারের মতো বিরল পাখিরও ছবি তোলেন।
প্রজাপতিটির নাম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. বাশার; পশ্চিমবঙ্গে এর নাম আলসিন্দুরা, ইংরেজিতে Crimson Rose। প্যাপিলিওনিডি গোত্রের প্রজাপতিটির বৈজ্ঞানিক নাম Pachliopta hector। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা যায়।
চেনার উপায়: ডানা মেলা অবস্থায় দৈর্ঘ্য ৯০ থেকে ১১০ মিলিমিটার, দেহ উজ্জ্বল লাল। সামনের ডানায় স্পষ্ট সাদা পট্টি, পেছনের চকচকে নীলচে-কালো ডানায় উজ্জ্বল লাল ফোঁটা ও লম্বা লেজ। স্ত্রী-পুরুষ প্রায় একই রকম, তবে স্ত্রীর দেহ কিছুটা ফ্যাকাশে আর লাল ছোপ বড়।
খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে এরা দেখা যায়, বাস করে বন ও খোলা জায়গায়, ফুলের মধু খুব পছন্দ, সারা বছর ওড়ে এবং পরিযায়নের স্বভাব প্রকট। স্ত্রী প্রজাপতি গন্ধম, ঈশ্বরমূল ও পাইপ ভাইনের মতো পোষক গাছের পাতাপ্রতি একটি লালচে ডিম পাড়ে।
ডিম ফোটে ৬ থেকে ১০ দিনে; কালচে-বাদামি শূককীট পাঁচবার খোলস পাল্টে তিন-চার সপ্তাহে মূককীট হয়, তার ১০ থেকে ২০ দিন পর বেরিয়ে আসে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি, যা বাঁচে মাত্র ৬ থেকে ১৪ দিন। ডিম থেকে পূর্ণাঙ্গ হতে লাগে ৩৯ থেকে ৪৭ দিন।
ছবি: সিঁদুরী পদ্মরাগ বা ক্রিমসন রোজ প্রজাপতি, Dr. Raju Kasambe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)