ফসল কাটার আগে ভুট্টার গাছ হেলে বা ভেঙে পড়া ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও জিন বিশ্লেষণ কাজে লাগিয়ে চার বছরের একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। 'স্টক লজিং' নামে পরিচিত এই সমস্যায় বিশ্বে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলারের ফসল নষ্ট হয় বলে ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ফার্মস ডটকম।
ঝোড়ো হাওয়া, ঝড় বা অন্য চাপে পরিণত ভুট্টার গাছ পড়ে গেলে ফসল তোলা কঠিন হয়, ফলন কমে, দানার মানও খারাপ হয়। জিনতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, পরিসংখ্যান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গড়া দলটির লক্ষ্য প্রজননবিদদের হাতে এমন তথ্য তুলে দেওয়া, যাতে সহজে হেলে না পড়া হাইব্রিড জাত তৈরি করা যায়।
ক্লেমসনের জেনেটিকস ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেখোন বলেন, এটি অনেকটা শক্ত গাছ আর দুর্বল গাছকে ডিএনএ পর্যন্ত উল্টো দিক থেকে বিশ্লেষণ করার মতো। বিজ্ঞানীরা ডিএনএ থেকে শুরু করে গাছের রসায়ন, কোষের গঠন ও কাণ্ডের উপাদান হয়ে যান্ত্রিক শক্তি পর্যন্ত বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করবেন, কারণ তাঁদের ধারণা, একটি নয়, অনেক কারণ মিলেই কাণ্ড শক্ত হয়।
হেলে পড়ার ইতিহাসে শক্ত ও দুর্বল—দুই ধরনের প্রায় ১,০০০টি ইনব্রেড ভুট্টা লাইন মাঠে চাষ করে কাণ্ডের শক্তি, দৃঢ়তা, ব্যাস ও বাকলের পুরুত্ব মাপা হবে; সঙ্গে চলবে মেটাবোলোমিক্স ও কোষপ্রাচীরের রসায়ন বিশ্লেষণ। ক্লেমসনের গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ম্যাকমাহান বলেন, পার্থক্যটা কেন হয়, সেটাই তাঁরা বুঝতে চান।
মেশিন লার্নিং দিয়ে বিপুল তথ্য থেকে সবচেয়ে প্রভাবশালী জিনগত চিহ্ন বের করা হবে। দলটি এমন স্বয়ংক্রিয় সেন্সর ব্যবস্থাও তৈরি করছে, যা সাধারণ ফসল কাটার সময়েই কাণ্ডের শক্তি মাপতে পারবে; এতে হাতে মাপার চেয়ে অনেক বেশি গাছ পরীক্ষা করা যাবে। লক্ষ্য প্রায় ৫০০টি যাচাই করা জিনগত চিহ্ন, যা দিয়ে প্রজননবিদেরা শক্ত কাণ্ডের গাছ বাছাই করতে পারবেন।
কৃষকের জন্য এর মানে কম ক্ষতি, ভালো মানের দানা ও আরও নির্ভরযোগ্য ফলন—বিশেষত আবহাওয়ার ঝুঁকি যখন বাড়ছে। গবেষকেরা বলছেন, এই পদ্ধতি পরে অন্য ফসলের জটিল বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণাতেও কাজে লাগতে পারে।
ছবি: Lynn Betts / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)