ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে, অতিরিক্ত মুনাফা বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাকে চাপে ফেলা যাবে না বলে সতর্ক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ডিম ও পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম বাড়ায় এখন প্রতি ডিমের উৎপাদন খরচ প্রায় ১১ টাকা। তাঁদের তথ্যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ টাকা ৯১ পয়সা, সেপ্টেম্বরে তা প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সা। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যন্ত সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা মূল্য সংযোজন হয়, আর বছরের বড় সময় উৎপাদন খরচের নিচে বিক্রি করতে হয় বলে জানান তাঁরা।
দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে উৎপাদন বেশি হলে এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। টার্নওভার ও আয়কর যৌক্তিক করা, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও বাজারজাতের বাধা কমানো এবং প্রতিদিনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরের তথ্য প্রকাশেরও সুপারিশ করেন তাঁরা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করবেন, এটি স্বাভাবিক; তবে অস্বাভাবিক মুনাফা, কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহে বাধা দিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই। সারা বছর দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান পর্যালোচনা করে কোন ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মুনাফা যোগ হচ্ছে, তা চিহ্নিত করার কথা বলেন তিনি।
প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য উৎপাদকের ন্যায্য মূল্য, ব্যবসায়ীর যৌক্তিক মুনাফা আর ভোক্তার জন্য সহনীয় দাম। সভায় বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জিসান হাসান, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মশিউর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: Rüdiger Wölk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: ডেইলি অবজারভার





মন্তব্য
(০)