চীনে ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা সফল হয়েছে। ১৯৯৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির ম্যানগ্রোভের আয়তন ১০ হাজার ৬১৭ হেক্টর থেকে বেড়ে ২৮ হাজার ১৯৪ হেক্টর হয়েছে, বৃদ্ধি প্রায় ১৬৬ শতাংশ। একই সময়ে উপকূলে রেকর্ড করা পাখির প্রজাতি ১৪৮টি থেকে বেড়ে ৩৯৭টিতে পৌঁছেছে, আর আইইউসিএনের হুমকির তালিকায় থাকা পাখির সংখ্যা ম্যানগ্রোভ এলাকায় বেড়েছে ৯১ শতাংশ। প্রথম আলোর পরিবেশ প্রতিবেদনে এই গবেষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণাটি করেছেন চীনের নিংবো ইউনিভার্সিটির ভূগোল ও স্থানিক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পাঁচ গবেষক, আর সেল প্রেসের অংশীদার পিয়ার-রিভিউড জার্নাল দ্য ইনোভেশন-এ তা প্রকাশিত হয়েছে এ বছরের অক্টোবরে। গবেষকেরা গুগল আর্থ ইঞ্জিনে ১৩ হাজার ৩০০টির বেশি ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বনের পরিধি ও ঘনত্ব মেপেছেন, পাখির তথ্য নিয়েছেন জিবিআইএফের ই-বার্ড ডেটাসেট থেকে, সঙ্গে সামুদ্রিক পরিবেশ, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও আবহাওয়ার তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যানগ্রোভ বাড়ায় উপকূলের পানির মান ভালো হয়েছে, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ছোট মাছ, চিংড়ি ও মলাস্কের মতো জলজ প্রাণী বেড়েছে। এতে পাখিরা নিরাপদ খাবার আর বাসা বাঁধার জায়গা পেয়েছে, খাদ্যশৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে পাখির প্রাচুর্য ও প্রজাতি দুটিই বেড়েছে।
গবেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতি, যেমন ২০০০ সালের চীন জলাভূমি সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা, ২০০৯ সালের সংশোধিত সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা আইন এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর জলাভূমি সুরক্ষা আইন। মাঠে নেওয়া হয়েছিল তিনটি প্রধান ব্যবস্থা: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চারা রোপণ, চিংড়ি ও মাছের ঘের আবার ম্যানগ্রোভে ফিরিয়ে দেওয়া, আর ক্ষতিকর আগ্রাসী উদ্ভিদ সরানো। উষ্ণায়নে ওই অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বৃষ্টি বাড়াও চারা টিকে থাকতে এবং বন উত্তর দিকে ছড়াতে সাহায্য করেছে।
বিশ্বজুড়ে গত প্রায় অর্ধশতাব্দীতে ম্যানগ্রোভ বনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, যা নানা কারণে দিন দিন বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে, আর চকরিয়ার সুন্দরবন ধ্বংস হয়েছে চিংড়ি চাষসহ নানা কারণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার সুন্দরবন রক্ষা ও চকরিয়া সুন্দরবন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। চীনের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু গাছ লাগানো নয়, উপকূলের পানি ও মাটির মান, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও খাদ্যশৃঙ্খলও ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। উপকূলের মৎস্যজীবী ও চিংড়িচাষিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ম্যানগ্রোভ ফিরলে মাছ, চিংড়ি আর কাঁকড়ার প্রাচুর্যও ফেরে।
ছবি: Itsmine / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)