ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের শীর্ষ বৈঠক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন ও শূকর খামারিরা পেয়েছেন বাণিজ্য বিরতির দুই মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি, কিন্তু কৃষি বাণিজ্য নিয়ে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। খবরটি দিয়েছেন মিশিগান অ্যাগ টুডের এরিক ফাইফার (Eric Pfeiffer)।
বৃহস্পতিবার আলোচনা শেষ হয় কোনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি বা কৃষিপণ্য কেনার নির্দিষ্ট নতুন প্রতিশ্রুতি ছাড়াই। দুই দেশ বিদ্যমান বাণিজ্য বিরতি ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যাতে শুল্ক, কৃষিপণ্য কেনা ও অন্যান্য বিরোধ নিয়ে আলোচনার সময় মেলে; পরের সময়সীমা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে চলে গেল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) বলেন, ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ২ কোটি ৫০ লাখ টন মার্কিন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতিতে চীন ভালো অগ্রগতি করছে; রয়টার্সসহ বাজার সূত্রের খবরে চীনের রাষ্ট্রীয় ক্রেতারা এ বছরের লক্ষ্যের অর্ধেকের বেশি পূরণ করেছে। তবে সয়াবিন ছাড়া অন্যান্য মার্কিন কৃষিপণ্য অন্তত ১,৭০০ কোটি ডলারের কেনার আলাদা প্রতিশ্রুতিতে চীন পিছিয়ে আছে বলে জানান বেসেন্ট; চলতি বিপণন বছরে চীন কোনো মার্কিন ভুট্টা কেনেনি, সরগাম কেনাও প্রত্যাশার চেয়ে কম।
শূকরের মাংস কেনা বা বাজারে প্রবেশ বাড়ানো নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি, মার্কিন কৃষিপণ্যে চীনের শুল্ক ব্যাপকভাবে কমানোর সিদ্ধান্তও হয়নি। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর মনে হয় কৃষকেরা খুব খুশি হবেন, অনেক ইতিবাচক কিছু ঘটেছে; তবে কোনো পরিমাণ, অর্থমূল্য বা সময়সূচি জানাননি। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার (Jamieson Greer) জানান, সোমবার চীনের কেনাকাটা নিয়ে আরও তথ্য আসতে পারে।
নির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকায় শুক্রবার বাজার খোলার সময় শিকাগোর শস্য ফিউচারের দাম কমে যায়। আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্কট মেটজগার (Scott Metzger) বলেন, সয়াবিনচাষিরা চান এই গতি অব্যাহত থাকুক, মার্কিন সয়াবিনের জোরালো কেনাকাটা ও চীনের সঙ্গে টেকসই বাণিজ্য অংশীদারত্ব হোক।
বিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্প ও সি ১৮-১৯ নভেম্বর চীনে এপেক সম্মেলনে এবং ১৪-১৫ ডিসেম্বর ফ্লোরিডায় জি-২০ নেতাদের বৈঠকে আবার মিলিত হবেন। প্রতিবেদনের উপসংহার, কৃষকের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি হবে চীন আসলে কতটা কেনে, কোন শুল্ক তোলে এবং বাজারে প্রবেশ কতটা টেকসই হয়।
ছবি: Judd McCullum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Michigan Ag Today




মন্তব্য
(০)