চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সয়াবিন বাদে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কৃষিপণ্য কেনায় এ বছর সাত বছরের সর্বনিম্নে নামার পথে চীন। শুল্ক তথ্য নিয়ে রয়টার্সের বিশ্লেষণের বরাতে এ খবর দিয়েছে দ্য ক্যাটল সাইট (The Cattle Site)।
হিসাব বলছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীন মাংস থেকে ভুট্টা মিলিয়ে এসব পণ্য কিনেছে ৭২০ কোটি ডলারের, যা ২০১৯ সালের পর এই সময়ের সবচেয়ে কম। মে মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ২০২৬ থেকে বছরে ১,৭০০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে রাজি হয়েছে বেইজিং, এ বছরের লক্ষ্য আনুপাতিক হারে। এর বাইরে গত অক্টোবরে সয়াবিন কেনার আলাদা অঙ্গীকার ছিল, এবং সয়াবিনের লক্ষ্যপূরণের পথেই আছে চীন।
চীন অঙ্গীকার ভেঙেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। হিসাব মে মাসের ঘোষণা থেকে শুরু হয়েছে, নাকি চীনের প্রস্তাবিত শুল্ক কমানো চূড়ান্ত হলে শুরু হবে, হোয়াইট হাউস তা জানায়নি। সেই শুল্ক কমানো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ন্যাশনাল সরগম প্রডিউসার্সের প্রধান নির্বাহী টিম লাস্ট (Tim Lust) বলেন, সয়াবিনের লেনদেন হচ্ছে, কিন্তু অন্য পণ্যের হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দুর্বল চাহিদা ও প্রতিযোগিতার কারণে বেইজিং রাষ্ট্রীয় ক্রেতাদের না নামালে এই লক্ষ্য ছোঁয়া কঠিন। ২০২১ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন ভুট্টা কিনেছিল ৫৬০ কোটি ডলারে। এখন দেশে পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সহযোগী ব্রোকার কফকো ফিউচার্স (COFCO Futures) ২০২৬/২৭ বিপণন বছরে মাত্র প্রায় ৯ লাখ টন আমদানির পূর্বাভাস দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরগম রপ্তানি ২০২১ সালে ৬৫ লাখ মেট্রিক টনে উঠেছিল। এখন প্রতিযোগিতা ব্রাজিলের সঙ্গে, যারা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাজার পেয়ে এ বছর ১৭ লাখ টন পাঠিয়েছে। চীনে শূকর ও মুরগির মাংসের সরবরাহ বেশি, আর পশুপাল কমায় মার্কিন গরুর মাংস দামি। ইউএস মিট এক্সপোর্ট ফেডারেশনের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের গরু জবাই সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক চীনে রপ্তানির অনুমতি পায় না।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন দ্য ক্যাটল সাইটের মেলানি এপ (Melanie Epp)।
ছবি: Judd McCullum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: The Cattle Site





মন্তব্য
(০)