ভারতের ছত্তিশগড়ের কোন্ডাগাঁও জেলার ময়ূর ডোঙ্গরের সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশো শিক্ষার্থী বিনা মূল্যে পেয়েছে গোলমরিচ (Piper nigrum), গুলঞ্চ বা গিলয় (Tinospora cordifolia) এবং সিঁদুরি বা অ্যানাটো (Bixa orellana) গাছের চারা। শিক্ষার সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উদ্যোক্তা হওয়ার ভাবনা মেলাতে এই আয়োজন বলে জানিয়েছে কৃষি জাগরণ। এলাকার প্রায় ২৫ জন অগ্রসর কৃষকও চারা পেয়েছেন।
উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে মা দন্তেশ্বরী হার্বাল গ্রুপ। গ্রুপের পরিচালক অনুরাগ কুমার শিক্ষার্থীদের চারা লাগানো ও যত্নের হাতে-কলমে পদ্ধতি দেখান; শিক্ষার্থীরা চারাগুলো বাড়িতে বা উপযুক্ত জায়গায় বড় করবে।
বস্তারের স্থানীয় হালবি ভাষায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ড. Rajaram Tripathi (রাজারাম ত্রিপাঠী) বলেন, গোলমরিচ ও সিঁদুরির মতো বহুবর্ষজীবী গাছ ঠিকভাবে লাগিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যত্ন নিলে বহু বছর পরিবারের আয়ের উৎস হতে পারে। তিনি কৃষিকে আধুনিক ব্যবসা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান, যেখানে ভেষজ চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন, প্যাকেজিং ও বিপণনে সুযোগ আছে। "চারা লাগানো শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতে বিনিয়োগও হতে পারে," বলেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক জামিল খান শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হওয়ার আহ্বান জানান। উদাহরণ দেন ড. ত্রিপাঠীর, যিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপকের মতো প্রচলিত পেশা ছেড়ে কৃষি ও উদ্যোগের পথ বেছে নিয়েছেন। বিদ্যালয় জানিয়েছে, গাছের যত্ন শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার অংশ হবে।
ড. ত্রিপাঠী জানান, এক বছর পর তিনি আবার গ্রামে এসে বিতরণ করা গাছ দেখবেন; যেসব শিক্ষার্থী ও কৃষকের গাছ সুস্থ থাকবে, তাঁদের বিনা মূল্যে আরও মূল্যবান চারা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের তরুণ সরপঞ্চ জয়রাম নেতাম ও অন্য গ্রামবাসীরাও চারা নিয়ে সেগুলো বড় করার অঙ্গীকার করেন।
ছবি: Dcrjsr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ





মন্তব্য
(০)