বহুরূপী ঈগল বাংলাদেশের একটি দুর্লভ আবাসিক শিকারি পাখি। কালো বা শিখাযুক্ত ঈগল নামেও পরিচিত, পশ্চিমবঙ্গে একে বলে শাবাজ সাদাল। ইংরেজিতে চেঞ্জেবল বা ক্রেস্টেড হক-ঈগল নামের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম নিসায়েটাস সিরাটাস। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর দেখা মেলে।
পাখিটিকে তিনবার তিন জায়গায় দেখার অভিজ্ঞতা দেশ রূপান্তরে লিখেছেন ড. আ ন ম আমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের মার্চে সুন্দরবনের কটকার জামতলী খালের পাড়ে একটি কেওড়া গাছে গাঢ় কালচে-বাদামি একটি পাখি দেখে প্রায় পাঁচ মিনিটে ৪৯টি ছবি তোলেন তিনি। ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি মংলা থেকে লাউডোব যাওয়ার পথে বড় একটি গাছ থেকে উড়ে যাওয়া বাদামি পাখিটির ২৭টি ছবি তুলে বোঝেন, এটি সেই একই প্রজাতির হালকা রূপ।
তৃতীয়বার, ২০২৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শেরপুর শহরের কাছে একটি পরিত্যক্ত রিসোর্টের পুকুরপাড়ে বিশাল একটি মেঘশিরীষ গাছের উঁচু ডালে হালকা রূপের একটি পাখিকে ডিমে তা দিতে দেখেন তিনি, পাশের ডালে পাহারায় ছিল গাঢ় রূপের পাখিটি। হালকা রূপের পাখি উঠে যেতেই গাঢ় রূপেরটি গিয়ে বাসায় বসে, অর্থাৎ দুই রূপের দুটি পাখি জোড়া বেঁধেছে।
লেখকের বর্ণনায়, পাখিটির দেহ ৫১ থেকে ৮২ সেন্টিমিটার লম্বা, ওজন ১.৩ থেকে ১.৯ কেজি। বছরে চার থেকে পাঁচবার পালকের রং বদলায় বলে একেক সময় একেক রকম দেখায়, তবে হালকা ও গাঢ় দুটি রূপই বেশি চোখে পড়ে। হালকা রূপের পিঠ বাদামি, বুক-পেট সাদাটে ও লম্বা দাগযুক্ত; গাঢ় রূপ দেখতে কালচে, আসলে ঘন কালচে-বাদামি। পা লেবু-হলুদ ও লম্বা, ঠোঁট কালো, স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম।
এরা উন্মুক্ত বনভূমি, বনের কাছের আবাদি জমি এবং বিল ও জলাধারের আশপাশে একা বা জোড়ায় ঘোরে। খাদ্যতালিকায় আছে ইঁদুর, তক্ষক, ব্যাঙ, ছোট সাপ ও মাছ। প্রজননকালে পুরুষ পাখি উঁচু স্বরে 'কি-কি-কি-কি-কিউ' শব্দে ডাকে।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। উঁচু গাছের মাথায় ডালপালা ও সবুজ পাতা দিয়ে বাসা বানায়, স্ত্রী পাখি মৌসুমে মাত্র একটি ডিম পাড়ে। ডিমে একাই তা দেয় স্ত্রী পাখি, প্রায় ৪০ দিনে ডিম ফোটে, এরপর অন্তত ২৫ দিন মা ছানাটিকে বুকের ওমে রাখে। প্রায় ৫২ দিন বয়সে ছানার পালক পুরোপুরি গজায়।
লেখাটি দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ড. আ ন ম আমিনুর রহমানের লেখা অবলম্বনে।
ছবি: Charles J. Sharp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)