বছরের এই সময়ে চলনবিল থেকে প্রচুর দেশি মাছ আসার কথা, কিন্তু এবার তার দেখা নেই। ফলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, সলঙ্গা ও তাড়াশে বিলের ধারে বসানো অন্তত দুই শতাধিক শুঁটকি চাতালের বেশির ভাগ জায়গা ফাঁকা, শ্রমিকেরা বসে সময় কাটাচ্ছেন।
প্রতিবছর স্থানীয় আর দেশের নানা জায়গা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব চাতাল বসান। শোল, বোয়াল, টাকি, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, বেলে, চিংড়ি, পুঁটি, মলা, চাঁদা, কাচকি, বাইম, বাতাসি, ফলি, আইড়সহ দেশি মাছ পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে বাঁশের চাতালে শুকানো হয়, আর সেই শুঁটকি দেশের নানা জেলায় যায়, বিদেশেও রপ্তানি হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চাতাল বসিয়েও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্যে, বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিলে চায়না দুয়ারীসহ নানা জালে ছোট-বড় সব মাছ ধরায় দেশি মাছের বংশ ধ্বংসের পথে। শুঁটকি ব্যবসায়ী আনিছ জানান, এবার চড়া দামে অল্প মাছ কিনতে হচ্ছে, তা দিয়ে আগের মতো উৎপাদন সম্ভব নয়। উল্লাপাড়ার পাঙ্গাসী এলাকার আমজাদ হোসেনের চাতালের অর্ধেক ফাঁকা পড়ে আছে।
চাতালশ্রমিক খাদিজা ও সোবাহান জানান, আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ কাটা, ধোয়া আর শুকানোর কাজ থাকত, সেই আয়ে চলত সংসার আর সন্তানদের পড়াশোনা। এখন কাজ অর্ধেকেরও নিচে, বেশির ভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হয়।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, দেশি মাছ রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তরের নানা কার্যক্রম চলছে; অবৈধ জাল বন্ধ, পোনা রক্ষা আর প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে আইনি ব্যবস্থা ও অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতার।
ছবি: Souradeep Roy 1998 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)