কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের ক্যানোলা (সরিষাজাতীয় তেলবীজ) খেতে ২০২৬ সালে ক্লাবরুট রোগের ছয়টি নতুন সংক্রমণ পাওয়া গেছে, তার কয়েকটিতে লক্ষণ অস্বাভাবিক তীব্র। ৭ অক্টোবর প্রাদেশিক কৃষি বিভাগের এক ওয়েবিনারে এ তথ্য দেন উদ্ভিদরোগ বিশেষজ্ঞ সাইমন হুয়াং (Simon Huang), জানিয়েছে ম্যানিটোবা কো-অপারেটর। ২০১৮ সালে ১৫টি খেতের পর এটিই সবচেয়ে বেশি নতুন সংক্রমণ।
সপ্তম সংক্রমণটি পাওয়া গেছে কর্নওয়ালিস পৌর এলাকায় আলুর জৈব ধোঁয়াশোধক হিসেবে চাষ করা সরিষায়। ক্যানোলার সংক্রমণগুলো লর্ন ও লুইস পৌর এলাকায় একটি করে, আর পেম্বিনা ও সোয়ান রিভার ওয়েস্টে দুটি করে; সবগুলো নিশ্চিত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার স্টিফেন স্ট্রেলকভের গবেষণাগারে।
মাটিবাহিত এ রোগে ক্যানোলার শিকড়ে গুটি হয়, পানি ও পুষ্টি শোষণ কমে, গাছ নেতিয়ে পড়ে, আগেভাগে পেকে যায়, ফলন কমে। ম্যানিটোবায় ক্লাবরুট আলবার্টার চেয়ে কম, কিন্তু এবারের খেতে ব্যাপক গুটি, নেতিয়ে পড়া অংশ, রং বদল আর অকালে গাছ মরা দেখা গেছে। হুয়াংয়ের ভাষায়, এমন লক্ষণ আলবার্টায় বেশি দেখা যায়, কারণ সেখানে রোগজীবাণুর ধরন ও মাটিতে জীবাণুর পরিমাণ বেশি।
হুয়াং নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্ত জমিতে প্রথম প্রজন্মের ক্লাবরুট প্রতিরোধী জাত বোনা হয়েছিল, তবে প্রতিরোধ ভেঙে গেছে বলে এখনই সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না। কোন ধরনের (প্যাথোটাইপ) জীবাণু দায়ী, তা জানার পরীক্ষার ফল আসবে ২০২৭ সালের শুরুতে, যা দেখাবে ম্যানিটোবায় নতুন ধরন ঢুকেছে কি না। আগে খুব কম নমুনা পরীক্ষা হওয়ায় জানা ধরনগুলো, যেমন ৫এল, ২সি, ৮এ ও ৩এইচ, পুরো চিত্র না-ও হতে পারে। তেলবীজ বিশেষজ্ঞ সোনিয়া উইলসন জানান, কিছু জাতে বিস্তৃত দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রতিরোধও আছে।
উইলসনের পরামর্শ, দুই ক্যানোলা ফসলের মধ্যে দুই থেকে তিন বছরের বিরতি, যেখানে রোগ দেখা গেছে সেখানে তিন বছর; সঙ্গে প্রতিরোধী জাত আর দূষিত মাটি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়া ঠেকানো, কারণ জীবাণুর দীর্ঘজীবী স্পোর লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই মাটিতে জমতে পারে। ম্যানিটোবা ক্যানোলা গ্রোয়ার্স প্রতি খেতে একটি নমুনা বিনা মূল্যে পরীক্ষা করে দেয়; খেতের প্রবেশপথ বা সন্দেহজনক জায়গা থেকে নমুনা নিয়ে জিপিএস অবস্থান লিখে রাখতে বলা হয়েছে।
ছবি: Leafhopper65 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Manitoba Co-operator





মন্তব্য
(০)