শুল্ক ও বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে কানাডার খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারীদের সামনে এখন টিকে থাকার চেয়ে ঝুঁকি সামলানোই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। ফার্ম ক্রেডিট কানাডার (এফসিসি) অর্থনীতি বিভাগের মধ্যবর্তী হালনাগাদ প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর দিয়েছে দ্য ক্যাটল সাইট।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে খাতটির বিক্রি ৪ শতাংশ বেড়ে ৮,৮১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই বৃদ্ধি এসেছে মূলত দাম বাড়ায়, বিক্রির পরিমাণ বাড়ায় নয়; দামের প্রভাব বাদ দিলে প্রকৃত বিক্রি আগের বছরের সমান।
এফসিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রেইগ জনস্টন (Craig Johnston) বলেন, প্রথম ছয় মাসে খাতটি টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছে, কিন্তু মোট বিক্রির অঙ্ক পুরো চিত্র দেয় না। পরিমাণ নয়, দামের কারণে বিক্রি বাড়লে বোঝা যায়, কোম্পানিগুলো সতর্ক চাহিদার মধ্যে বাড়তি ও অনিশ্চিত খরচ সামলাচ্ছে।
খাতভেদে ফল ছিল ভিন্ন। শস্য ও তেলবীজ মাড়াই, ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পশুখাদ্য উৎপাদনে বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি; চিনি ও মিষ্টান্ন, মদ তৈরির কারখানা ও ডিস্টিলারিতে বিক্রি কমেছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচের ওঠানামা, উপকরণের বাড়তি দাম, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য বিধিনিষেধ এবং কানাডার পাল্টা শুল্ক উৎপাদন খরচ, রপ্তানির সুযোগ ও মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
এফসিসি মনে করছে, কঠিন এক বছরের পর ২০২৬ সালে মুনাফা কিছুটা বাড়বে, তবে বছরের শেষ দিকে বাণিজ্য ও খরচের চাপ বাড়ায় সেই পুনরুদ্ধার নাজুক থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার সরাসরি প্রভাব এ বছর সীমিত থাকবে, কারণ বেশির ভাগ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কেবল সেপ্টেম্বরে।
জনস্টন বলেন, মুনাফা কম থাকায় বৈচিত্র্য আনা, প্রদেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাধা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এফসিসির হিসাবে আগামী এক দশকে খাতটি বছরে ৩ শতাংশ হারে বাড়লে কানাডার জিডিপিতে বাড়তি ৪,০০০ কোটি ডলার যোগ হতে পারে এবং ২ লাখ ১৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, ১,৬০০ কোটি ডলারের মজুরি ও সুবিধা এবং ১৩০ কোটি ডলারের কর রাজস্ব তৈরি হতে পারে।
ছবি: Chicoutimi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: The Cattle Site




মন্তব্য
(০)