বেসরকারি সংস্থা, গবেষক ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম সেন্ট্রাল এশিয়ান কনজারভেশন নেটওয়ার্ক (সিএসিএন) ‘মধ্য এশীয় উড়ালপথ ডিজিটাল হাব’ চালু করেছে। বিশ্বের প্রধান পাখি অভিবাসন পথগুলোর একটিতে পরিযায়ী পাখি নিয়ে জ্ঞান এক জায়গায় আনাই এর লক্ষ্য।
মধ্য এশীয় উড়ালপথ উত্তর ইউরেশিয়া থেকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত পাখির প্রজনন, যাত্রাবিরতি ও শীতকালীন আবাসকে যুক্ত করে, আর ৬০০টির বেশি প্রজাতি এই পথ ব্যবহার করে। সিএসিএনের বিজ্ঞান ও নীতি উপদেষ্টা এবং ওয়েটল্যান্ডস ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা তাজ মুন্দকুর বলেন, সংরক্ষণ নির্ভর করে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষ ও সংগঠনের জ্ঞান ভাগাভাগি ও একসঙ্গে কাজ করার ওপর।
হাবের মূল দুটি পোর্টাল। পাখির সংঘর্ষ জানানোর পোর্টালে বিদ্যুতের তার, বায়ুকল ও অন্য স্থাপনায় ধাক্কা খেয়ে মারা যাওয়া বা আহত পাখির তথ্য নথিভুক্ত করা যাবে, কারণ এসব তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে বলে আঞ্চলিক চিত্র বোঝা কঠিন। আংটি ও পুনর্দর্শন পোর্টালে ধাতব বা রঙিন আংটি, পায়ের পতাকা, গলাবন্ধনী পরানো পাখির খবর রাখা হবে। এক দেশে চিহ্ন দেওয়া পাখি হাজার কিলোমিটার দূরে দেখা গেলে উড়ালপথের দুই প্রান্তের সংযোগের প্রমাণ মেলে।
হাবে শিশু, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষামূলক উপকরণও আছে, যার একটি একটি রাজহাঁসজাতীয় পাখির (বার-হেডেড গুজ) প্রথম অভিবাসনের গল্প। বার্ড কাউন্ট ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিলে ‘ফ্লাইওয়ে কানেক্ট’ নামের উদ্যোগও তৈরি হচ্ছে, যাতে স্যাটেলাইট ট্যাগ লাগানো পাখির তথ্য পাখিপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে ভাগ হয়।
এই উড়ালপথে ভারত পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন আবাস। সিএসিএনের বিজ্ঞান সমন্বয়ক রমেশ কুমার সেলভরাজ বলেন, শীতকালীন আবাস ও যাত্রাবিরতির জায়গায় পাখির যা ঘটে, তা পুরো পথের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ডব্লিউডব্লিউএফ হংকং ও অর্নিথোলজিক্যাল সোসাইটি অব দ্য মিডল ইস্টের সহায়তায় তৈরি প্ল্যাটফর্মটি পাওয়া যাবে cafnetwork.org ঠিকানায়।
ছবি: ANKITNARANG297 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)