চলতি বছর দেশে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃক্ষরোপণ আর নির্দিষ্ট মৌসুমে আটকে না রেখে বছরজুড়ে চালানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শনের সময় এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এবার দেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী গাছ বাছাইয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে: ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। যেসব এলাকায় ইউক্যালিপটাসের বদলে অন্য প্রজাতি লাগানো হচ্ছে, সেখানে বিকল্প গাছ রোপণ চলছে। স্থানীয়ভাবে উপযোগী ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গাছের চারা সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই উৎপাদন করে সেখানে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইউক্যালিপটাসের প্রশ্নটি কৃষকের কাছে নতুন নয়। দ্রুত বাড়ে বলে একসময় এই বিদেশি গাছ মাঠের আইল, রাস্তার ধার ও বসতবাড়িতে ব্যাপকভাবে লাগানো হয়েছিল। স্থানীয় প্রজাতির দিকে ফেরার যে কথা মন্ত্রী বলেছেন, তার সঙ্গে ফলদ গাছের চারা উৎপাদনের পরিকল্পনা যুক্ত হলে নার্সারি মালিক ও বসতবাড়ির বাগানিদের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মানুষের বসবাসের জায়গা পরিষ্কার রাখা, গাছ লাগানো এবং পরিবেশের সঙ্গে মানুষের মানসিক সংযোগ বাড়ানো জরুরি। প্রতিটি এলাকার মানুষকে নিজের পরিবেশ সুন্দর রাখতে উদ্বুদ্ধ করার কথাও বলেন তিনি।
বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দারা নিজেদের ছোট রাস্তা ও আশপাশ পরিষ্কার রেখে গাছ ও ফুল লাগিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কলোনিটির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। এই উদ্যোগের ছবি বিভিন্ন শহরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিয়ে অন্য আবাসিক এলাকার মানুষকেও একইভাবে গাছ ও ফুল লাগাতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর এই পরিকল্পনা কোন কোন জেলায় কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং কত চারা কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। খবরটি ময়মনসিংহ থেকে ডেইলি অবজারভারের প্রতিবেদনে প্রকাশিত।
ছবি: Robbieross123 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); চারা রোপণের প্রতীকী ছবি
সূত্র: ডেইলি অবজারভার





মন্তব্য
(০)