বিহারের জঙ্গল থেকে ধরে পশ্চিমবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভে আনা বছর তিনেকের এক বাঘিনির গলার স্যাটেলাইট-যুক্ত ভিএইচএফ রেডিও কলার পরানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই খুলে পড়েছে। ফলে এক দিনের ব্যবধানে বাঘিনিটিকে দুবার অচেতন করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে এই সময়।
কেন্দ্রীয় বন মন্ত্রক সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাঘিনিকে ধরে কলার পরিয়ে খাঁচায় রাখা হয়। নিয়মমাফিক অচেতনতা কাটানোর ওষুধ দেওয়ার পর জেগে উঠেই সে নিজের গলায় থাবা মারে, আর তখনই কলারটি খুলে খাঁচায় পড়ে যায়। অথচ ওই কলার অন্তত এক বছর খোলার কথা নয়।
বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ সূত্র জানায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক বাঘের বেলায় গলা আর কলারের মাঝে অন্তত তিন আঙুলের ফাঁক রাখা হয়, যাতে শরীর বাড়লে শ্বাসরোধের উপক্রম না হয়। একটি সূত্রের দাবি, এবার সেই ফাঁক ঠিকমতো রাখা হয়নি। বন দপ্তর এ নিয়ে মুখ খোলেনি।
কলার ছাড়াই বাঘিনিকে প্রথমে সড়কপথে, পরে সুপার হারকিউলিস সামরিক বিমানে বুধবার ভোরে বক্সায় এনে এনক্লোজারে ছাড়া হয়। বুধবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী এনক্লোজারে বাঘিনির পানি খাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে দিলে দেখা যায়, গলায় কলার নেই। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তাকে আবার অচেতন করা হয়, সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট ফাঁক রেখে কলারটি ফের পরানোর কথা ছিল।
রাজ্য বন দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পরিবেশে বাঘিনি পুরো এনক্লোজার ঘুরে প্রস্রাব দিয়ে এলাকা চিহ্নিত করেছে, কয়েকবার জলাশয় থেকে পানি খেয়েছে। এনক্লোজারে শিকারের জন্য সাতটি চিতল হরিণ থাকার পরও বৃহস্পতিবার তাকে আলাদা করে প্রায় ১০ কেজি পাঁঠার মাংস কেন দেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা মেলেনি।
শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বাঘিনিকে খোলা জঙ্গলে ছাড়ার কথা, আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চ থেকে তা সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাও আছে। সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের আপত্তি পরে মিটে গেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের শিলাদিত্য সাহা ও পিনাকী চক্রবর্তীর প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Charles J. Sharp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)