গত ১২ বছরে অস্ট্রেলিয়ার গরু খামারিরা যে সম্পদ গড়েছেন, তার বেশির ভাগই এসেছে জমির দাম বাড়া থেকে, গরুর মাংস উৎপাদন থেকে নয়। বুশ অ্যাগ্রিবিজনেসের তৈরি তিন বছর অন্তর প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান বিফ রিপোর্টের ২০২৬ সালের চতুর্থ সংস্করণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৫৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি ২০০টির বেশি গরুর বিশেষায়িত খামারের সরকারি জরিপ এবং বুশ অ্যাগ্রিবিজনেসের নিজস্ব গ্রাহকদের আর্থিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, জানিয়েছেন বিফ সেন্ট্রালের জেমস ন্যাসন।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ১২ বছরে গড় পরিচালন আয় কার্যত লাভ-ক্ষতিহীন, অথচ ব্যবসার মোট গড় আয় ৫.৮ শতাংশ, যার পুরোটাই জমির মূল্যবৃদ্ধি থেকে। উত্তরে গড় আয় ৫.৯ শতাংশ, যার ১ শতাংশ খামার পরিচালনা থেকে আর ৪.৯ শতাংশ জমি থেকে। প্রতিবেদনের ভাষায়, গড়ে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সবটা বা প্রায় সবটা আসে জমির দাম বাড়া থেকে। সাম্প্রতিক তিন বছরে মুনাফা ১২ বছরের গড়ের চেয়ে বেশি হলেও জমির দাম বাড়ায় মুনাফার হার কমেছে।
ফলে ঋণ শোধ, বিনিয়োগ, উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বা সম্প্রসারণের জন্য হাতে টাকা থাকে সামান্য। ২০২৫ পর্যন্ত তিন বছরে উত্তরের খামারগুলো গড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ নিয়ে সুদ পরিশোধের পর গড়ে ৭৩ হাজার ডলার লাভ করেছে; দক্ষিণের খামারগুলো ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের সম্পদ নিয়ে গড়ে ৪০ হাজার ডলার লোকসান দিয়েছে। প্রতিবেদন সতর্ক করেছে, খাতের প্রায় অর্ধেকের হাতে চলতি খরচ ও সুদ মেটানোর পর প্রায় কোনো কার্যকরী মূলধন থাকে না; জমির দাম থেমে গেলে বা কমলে তাদের আর্থিক মূলধনও ঝুঁকিতে পড়বে।
রেকর্ড দাম ও বাড়তি অস্থিরতার মধ্যেও গড় খামার আর সেরা ২৫ শতাংশের ব্যবধান একই রয়ে গেছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, লাভের পার্থক্য ব্যাখ্যায় খরচের চেয়ে আয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খরচ প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে, কিন্তু সবচেয়ে কম খরচই সবচেয়ে ভালো নয়। বেশি আয়ের খামারগুলো সেখানে পৌঁছায় বেশি উৎপাদনশীল পালের মাধ্যমে, প্রতি পশু একক থেকে বেশি মাংস বিক্রি করে, বেশি দাম পেয়ে নয়।
উত্তর অস্ট্রেলিয়ার সেরা ২৫ শতাংশ খামারির উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি জীবিত ওজনে ১.৭৯ অস্ট্রেলীয় ডলার, যেখানে উত্তরের গড় ২.৪৯ ডলার; দক্ষিণে এই হিসাব ২.৩৫ ও ৩.৪০ ডলার। প্রতিবেদন বলছে, বেশির ভাগ খামারের জন্য উৎপাদন খরচ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো উৎপাদন বাড়ানো, যাতে খরচ বেশি কেজিতে ভাগ হয়।
লক্ষ্য হিসেবে প্রতিবেদনটি প্রতি কেজি জীবিত ওজনে ২ ডলারের কম, আর ভালো প্রজনন খামারের জন্য ১.৫০ ডলার উৎপাদন খরচের পরামর্শ দিয়েছে। আকার, শৃঙ্খলা এবং পালের উৎপাদনশীলতা, লক্ষ্যভিত্তিক ব্যয় ও শ্রমদক্ষতায় নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ থাকলে এটি অর্জনযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। খামার যত বড়, প্রতি পশুতে উপরি খরচ তত কমে, তাই সাধারণত লাভও বাড়ে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)