যুক্তরাজ্যের যেসব দুগ্ধ খামারি এখনো গবাদিপশুকে ব্লুটাং ভাইরাস সেরোটাইপ ৩ (বিটিভি-৩)-এর টিকা দেননি, তাঁদের দ্রুত টিকা দিতে বলা হচ্ছে। পশুচিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, রোগ ছড়ানো মিজ মাছি এখনো সক্রিয় এবং রোগটি শীতেও টিকে থাকবে। টেলফোর্ডে ইউকে ডেইরি ডের এক ব্রিফিং থেকে খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
যুক্তরাজ্যের প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা ক্রিস্টিন মিডলমিস বলেন, ইংল্যান্ডের সবার নিজেদের ঝুঁকিতে আছেন বলে ধরে নেওয়া উচিত; উষ্ণ আবহাওয়ায় মিজ এখনো সক্রিয়, সংক্রমণ হয়তো এখনো চূড়ায় পৌঁছায়নি। কৃষক সংগঠন এনএফইউর প্রাণিস্বাস্থ্য উপদেষ্টা ক্যাট ম্যাকলাফলিন মনে করিয়ে দেন, রোগটি জানানো বাধ্যতামূলক; এর লক্ষণ ক্ষুরারোগের মতো, যা এখন ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের কিছু অংশে আছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সিনার্জি ফার্ম হেলথের পশুচিকিৎসক জশ সোয়েন বলেন, টিকার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ লাগে, আর টিকা দেওয়া পালে সমস্যা কম দেখা গেছে। পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে বাছুর জন্মাতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা; প্রজননে প্রভাব নিয়ে দ্বিধায় থাকা খামারিদের তিনি বলেন, ব্লুটাংয়ের ক্ষতি তার চেয়ে অনেক বড়।
দুগ্ধ খামারি সোফি গ্রেগরি গাভিগুলোকে টিকা দিলেও বকনা বাছুরদের দেননি, যাকে তিনি ভুল বলছেন। পালে যুক্ত হতে যাওয়া তিনটি বকনা আক্রান্ত হয়, যার দুটি আর কখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে না; তাঁর ভাষায়, টিকার খরচ ক্ষতির চেয়ে কম হতো।
মিডলমিস জানান, ক্ষুরারোগের সন্দেহ না থাকলে বেসরকারি পশুচিকিৎসকেরা এখন গবেষণাগারে নমুনা ছাড়াই লক্ষণ দেখে রোগ নিশ্চিত করতে পারবেন। টিকার সরবরাহও বাড়ছে—আগস্টে ৩৫ লাখ ডোজ এসেছে, আরও ৩০ লাখ আসছে। মিজ শীতে টিকে থাকলে আগামী বছর আরও আগে ও ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন পশুচিকিৎসকেরা।
ছবি: Scott Bauer, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)