ব্রাজিলের কৃষি গবেষণা সংস্থা এমব্রাপা (Embrapa) দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য ‘বিআরএস আউরিয়া’ (BRS Áurea) নামে নাশপাতির একটি নতুন জাত ছেড়েছে। আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং ছত্রাকনাশক ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানোই লক্ষ্য।
রিও গ্রান্দে দো সুলের বেন্তো গনসালভেসে অবস্থিত এমব্রাপা উভা এ ভিনিও ২০০৬ সালে এশীয় নাশপাতি হোসুই ও ইউরোপীয় আবাতে ফেতেলের সংকরায়ণ থেকে জাতটি তৈরি করে। ২০২৫ সালের মে মাসে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত জাতটি ২০২৬ সালের আগস্টের শেষে ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক্সপোইনতের মেলায় চাষিদের সামনে আনা হয়। নেতৃত্ব দেন প্রজননবিদ জোয়াও কায়েতানো ফিওরাভানসো; সংরক্ষণগুণ মূল্যায়ন করেন লুসিমারা আন্তোনিওলি।
ব্রাজিল তার চাহিদার আনুমানিক ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নাশপাতি আমদানি করে, মূলত আর্জেন্টিনা ও চিলি থেকে; কারণ বেশির ভাগ জাতের যে পরিমাণ শীত লাগে, দেশটির মৃদু আবহাওয়ায় তা মেলে না, আর প্রধান স্থানীয় জাত ‘রোশা’ আর্দ্র পরিবেশে রোগ ও পোকায় খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিআরএস আউরিয়া ফ্যাব্রিয়া পাতার দাগ (এন্টোমোস্পোরিওসিস) ও নাশপাতির স্ক্যাব প্রতিরোধী; মাঠ পরীক্ষায় এতে দক্ষিণ আমেরিকার ফলের মাছির আক্রমণ ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, যেখানে রোশায় ৭০ শতাংশ। সুপ্তাবস্থা ভাঙতে এর মাত্র ৪০০–৬০০ ঘণ্টা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রা লাগে; পূর্ণ ফুল ফোটার প্রায় ১০৬ দিনে পাকে, ফলে জানুয়ারির শুরু থেকে মাঝামাঝিতে আমদানির আগেই বাজারে আসে; ঘন রোপণে হেক্টরে প্রায় ৩০ টন ফলন মিলেছে।
ফিওরাভানসো বলেন, জাতটিতে দক্ষিণ ব্রাজিলের আবহাওয়ায় খাপ খাওয়ানো, উচ্চ ফলন ও ভালো মানের ফল একসঙ্গে মিলেছে। প্রতিরোধক্ষমতা গাছের মধ্যেই থাকায় পাতার দাগ ও স্ক্যাব দমনে কম ছত্রাকনাশক এবং ফলের মাছি দমনে কম স্প্রে লাগবে।
ছবি: PumpkinSky / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)