ব্রাজিলের সারের বাজারে একসঙ্গে তিন দিক থেকে চাপ পড়েছে—ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কড়া ঋণ আর পরিবহনের সীমাবদ্ধতা। ক্রেতারা তাই সিদ্ধান্ত এগিয়ে এনে কিনছেন এমন সার, যা ইতিমধ্যে আমদানি প্রক্রিয়া পার হয়ে দেশের ভেতরে মজুত আছে। চাপ সবচেয়ে তীব্র ফসফেট সারে।
সার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিকানেকশন ফার্টিলাইজার্সের (AgriConnection Fertilizers) পরিচালক রাফায়েল আলমেইদা (Rafael Almeida) পরিস্থিতিকে বলছেন বিপণন ও সরবরাহ, ভূরাজনীতি ও ঋণ মিলিয়ে এক ‘নিখুঁত ঝড়’; যাঁরা কেনা পিছিয়েছেন, তাঁদের বেশি দামের পাশাপাশি পণ্য না পাওয়া ও খালাসের সময়সূচি হারানোর ঝুঁকিও আছে। ব্রাজিলের সার বিতরণকারী সমিতি আন্দার (Anda) তথ্যে ২০২৬-এর প্রথমার্ধে অভ্যন্তরীণ বাজারে সার সরবরাহ ৫.৪ শতাংশ কমে ২ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার টন থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে।
ফসফরাসের বিকল্প কম বলেই সেটি সংকটের কেন্দ্র; নাইট্রোজেন নানা উৎস থেকে আসতে পারে, ফসফরাস পারে না। আলমেইদার হিসাবে, বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ সালফার—ফসফরিক অ্যাসিড আর তাই এমএপি, এসএসপি ও টিএসপি সারের কাঁচামাল—হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। কাঁচামালের দাম বাড়ায় মিনাস জেরাইস ও গোইয়াসের কিছু ফসফেট কারখানা বন্ধ, আর চীন এ বছর কিছু বাইনারি ফসফেট সারের রপ্তানি স্থগিত করায় ব্রাজিলের বিকল্প আরও কমেছে। মাতো গ্রোসোতে উৎপাদন খরচ ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা উৎস বাড়াচ্ছেন: অ্যাগ্রিকানেকশন মরক্কো থেকে পরিশোধিত এমএপি, কানাডা থেকে পটাশিয়াম ক্লোরাইড আর চীন থেকে অ্যামোনিয়াম সালফেট আনছে এবং ব্রাজিলে ইতিমধ্যে শুল্কমুক্ত হওয়া সারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কখনো কখনো আগাম কিনে রেখেছে। নাইট্রোজেনের ছবিও বদলাচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইউরিয়ার জোগান কমায় চাহিদা সরেছে চীনের অ্যামোনিয়াম সালফেটে, যা এখন প্রতিষ্ঠানটির নাইট্রোজেন বিক্রির প্রধান পণ্য। আলমেইদার কথায়, ইউরিয়া আমদানি কমা মানেই নাইট্রোজেনের ঘাটতি নয়; বদলাচ্ছে সরবরাহের ‘ম্যাট্রিক্স’।
মধ্যমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারনির্ভরতা কমাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকারও। আইন ১৫,৪৯৬/২৬-এ গঠিত সার শিল্প উন্নয়ন কর্মসূচি ‘প্রোফার্ট’ (Profert) ৪ সেপ্টেম্বর কার্যকর হয়েছে; এতে বাণিজ্যিক মিশ্র সারে দেশে উৎপাদিত কৃত্রিম ও খনিজ সারের ন্যূনতম অংশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে—জুলাই ২০২৭ থেকে ২ শতাংশ, ২০৩৭-এ ১০ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সরবরাহকারীকে ব্রাজিলের কৃষকের সঙ্গে ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ মডেলে যুক্ত করা অ্যাগ্রিকানেকশন ২০২৫ সালে, তাদের প্রথম পূর্ণ বছরে, প্রায় ২৫ কোটি রিয়াল (৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার) মূল্যের ১ লাখ ৩০ হাজার টন সার লেনদেন করেছে; সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সরবরাহ ও চুক্তিবদ্ধ বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টনে, আর চড়া দাম ও বেশি ফসফেটের জোরে এ বছর ২০–২৫ শতাংশ আয় বৃদ্ধির প্রক্ষেপণ তাদের। প্রতিবেদনটি সম্পাদনা করেছেন অ্যাগ্রোপেজেসের লিওনার্দো গোতেমস (Leonardo Gottems)।
সূত্র: AgroPages

মন্তব্য
(০)