বগুড়ার মাঠে কৃষক পটোল বিক্রি করছেন কেজি ৩০ টাকায়। মহাস্থান হাটে হাতবদলের পর সেই পটোল ৪০ টাকা, আর মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে শহরের ফতেহ আলী বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র: কৃষক পাচ্ছেন ৩০-৩৫ টাকা, মহাস্থানে দাম ৪০, শহরে ৫০-৬০ টাকা। সোমবার মহাস্থান হাট ও ফতেহ আলী বাজার ঘুরে কৃষক, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও পরিবহনচালকদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র তুলে ধরেছে সমকাল।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন, শ্রমিক, খাজনা, বাছাই আর নষ্ট পণ্যের খরচ মিলিয়েই দাম বাড়ে। কিন্তু চালকদের দেওয়া হিসাব বলছে, ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ার পরও বাড়তি ভাড়া কেজিতে ভাগ করলে অঙ্কটা সামান্য। বগুড়া-টাঙ্গাইল রুটে ট্রাকভাড়া ৮ হাজার থেকে বেড়ে ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা হয়েছে; সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার কেজির চালানে তা কেজিতে প্রায় ২০ পয়সা। বগুড়া-চট্টগ্রামে ভাড়া ২৪-২৫ হাজার থেকে ২৮-৩০ হাজার টাকা হলেও ১৪ হাজার কেজির ট্রাকে কেজিপ্রতি বাড়তি খরচ ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা।
মহাস্থান থেকে শহরে বৈদ্যুতিক ভ্যানের ভাড়া ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম; ১৬০ থেকে ২০০ কেজির ভ্যানে তা কেজিতে ৫০ থেকে ৬৩ পয়সা। পাইকারি ব্যবসায়ী শাহিনুর ইসলামের দাবি, চট্টগ্রামে মিনি ট্রাকের ভাড়া ১৮ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা দিয়েও গাড়ি মিলছে না।
হাটে দাম কমলেও শহরে তার প্রভাব পড়ছে না। গত সাত দিনে মহাস্থানে পটোল ৪০ থেকে নেমে ২৫-৩০ টাকা, করলা ৫৫ থেকে ৪৫ এবং মুলা ৩৫ থেকে ২২ টাকা হয়েছে; লেবুর হালি ৩০ থেকে ২০ টাকা। অথচ সোমবারও ফতেহ আলী বাজারে পটোল ৫০-৬০, করলা ৮০ আর ফুলকপি ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
কৃষকের লোকসান আরও বাড়ায় হাটের খাজনা আর ধলতা। কৃষকেরা জানান, কেজিপ্রতি এক টাকা খাজনা দিতে হয়, আর ৪০ কেজির মণে অনেক সময় ৪২-৪৩ কেজি সবজি দিতে হয়। কৃষক আবুল হোসেনের হিসাবে, ৩০ টাকা দরে ৪০ কেজি পটোলের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা; সেই টাকায় ৪২ কেজি দিলে প্রকৃত দর দাঁড়ায় কেজিতে ২৮ টাকা ৫৭ পয়সা, ৪৩ কেজিতে ২৭ টাকা ৯১ পয়সা।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, মহাস্থান থেকে শহরে আনার বাড়তি ভাড়া কেজিতে এক টাকার মতো, তাই ব্যবসায়ীদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়ার সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, "তেলের দাম বাড়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারেন না।"
উৎপাদক আর ভোক্তা দুপক্ষই চাপে: কৃষকের হাতে লাভ থাকছে সামান্য, আর শহরের ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দাম। মাঝের হাতবদলে কোথায় কত টাকা যোগ হচ্ছে, তার হিসাব দরকার বলে মনে করছেন ক্রেতারাও।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)