কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল আবার চালু করতে তুরস্ক, ভারত ও মিসরের সঙ্গে একটি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে ইউক্রেন। ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আগস্ট থেকে রুশ হামলায় দেশটির শস্য রপ্তানির সক্ষমতা স্বাভাবিকের মাত্র ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোই ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানির প্রধান পথ; স্বাভাবিক এক বিপণন মৌসুমে এগুলো দিয়ে ৪ কোটি টন পর্যন্ত শস্য যেতে পারে। বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ বিমান হামলার কারণে আগস্ট থেকে চালান কার্যত বন্ধ।
জেলেনস্কির বর্ণনা অনুযায়ী, তুরস্ক, ভারত ও মিসরের পতাকাবাহী জাহাজ ইউক্রেন ও রাশিয়া দুই দেশের বন্দরেই খাদ্য বহনের জন্য ভিড়তে পারবে, আর কোনো পক্ষের জাহাজে হামলা হবে না, এমন সমঝোতা থাকবে: একটি জাহাজ ইউক্রেনের বন্দরে, আরেকটি রাশিয়ার বন্দরে। তিনি বলেন, তিন দেশ বারবার মস্কোর কাছে আবেদন করেছে, কিন্তু রাশিয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো চুক্তি হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ২০২২ সালের আগ্রাসনের পর চালু হওয়া রেল ও সড়কপথের রপ্তানি রুট, অর্থাৎ 'সলিডারিটি লেন' আবার চালু করতে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরোধ করেছে। তাঁর কথায়, শুধু রেলপথে এত চালান সামলানো সম্ভব নয়।
প্রস্তাবিত তিন নিশ্চয়তাদাতা দেশই ইউক্রেন বা রাশিয়ার, কিংবা দুই দেশেরই শস্যের বড় ক্রেতা, আর কেউই যুদ্ধের কোনো পক্ষের সঙ্গে এমনভাবে আনুষ্ঠানিক জোটে নেই যে তাদের পতাকাবাহী জাহাজ সহজ সামরিক লক্ষ্য হয়ে উঠবে। এই ব্যবস্থা মানলে রাশিয়াকে কার্যত মেনে নিতে হবে যে যে দেশে সে বোমা ফেলছে, সেখান থেকেই খাদ্য চালান আবার শুরু হচ্ছে; আর ইউক্রেন ফিরে পাবে এমন এক রপ্তানি পথ, যার জায়গা রেল বা ইউরোপের স্থলপথ পুরোপুরি নিতে পারে না।
জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, রাশিয়া এখনো কোনো বিকল্পে রাজি হয়নি, আর ইউক্রেনের স্বাভাবিক শস্য বাণিজ্যের বেশির ভাগের জন্য পথটি বন্ধই রয়েছে।
ছবি: President Of Ukraine / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)