কিছু জাতের যব প্রাকৃতিকভাবেই মাটির সেই অণুজীবগুলো দমিয়ে রাখে, যারা সারের নাইট্রোজেনকে এমন রূপে বদলে দেয় যা ধুয়ে যায় বা গ্রিনহাউস গ্যাস হয়ে উড়ে যায়—আর প্রজননবিদেরা এই গুণ বাছাই করতে পারেন। স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেমস হাটন ইনস্টিটিউটের ইন্টারন্যাশনাল বার্লি হাবের গবেষকদের এ তথ্য দিয়েছে গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার।
সার বা জৈব পদার্থ ভাঙলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম তৈরি হয়, যা মাটিতে আটকে থেকে শিকড়ের কাছে পাওয়া যায়। এরপর অ্যামোনিয়া-জারণকারী আর্কিয়া ও ব্যাকটেরিয়া তা নাইট্রেটে বদলায়, যা সহজে হারিয়ে যায়। যে গাছ এই অণুজীবকে দমায়—যাকে জৈবিক নাইট্রিফিকেশন নিবারণ (বিএনআই) বলে—তা ফসলের জন্য বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে।
গবেষকেরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কৃষিজমির মাটিতে ১০টি যবের জাত চাষ করেন এবং কোয়ান্টিটেটিভ পিসিআর দিয়ে দুই ধরনের অণুজীবেই থাকা অ্যামোএ জিনের সংখ্যা গুনে, গাছ ছাড়া মাটির তুলনায় তাদের সংখ্যা মাপেন।
ফলাফলে জাতভেদে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। উচ্চ-বিএনআই জাত অপটিক অ্যামোনিয়া-জারণকারী আর্কিয়া ২৩ শতাংশ ও ব্যাকটেরিয়া ৩০ শতাংশ কমিয়েছে; ওয়েস্টমিনস্টার ও ডেক্যান্টার আর্কিয়া কমিয়েছে যথাক্রমে ২৩ ও ২১ শতাংশ। একই পরিবেশে জাতভেদে সক্ষমতা এত আলাদা হওয়ায় গবেষকদের সিদ্ধান্ত, গুণটি বংশগত এবং নতুন জাতে যুক্ত করা সম্ভব।
২০২৬ সালের ৪ আগস্ট সাসটেইনেবল মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন জ্যাক হেন্ডারসন; সংশ্লিষ্ট লেখক অ্যাবারডিনের সেসিল গুব্রি-র্যাঙ্গিন, সঙ্গে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল বার্লি হাবের টিমোথি জর্জ।
ছবি: wfmillar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)