কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার পশ্চিম বাঙ্গরা ইউনিয়নের কুড়াখাল এলাকায় প্রায় ছয় একর তিন ফসলি জমিতে চার বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জমির মালিকদের দাবি, এর কোনো অনুমোদন নেই; পাইপ দিয়ে মাটি পাশের কাগাতুয়া গ্রামের কৃষিজমি ভরাট করে বসতবাড়ি বানাতে নেওয়া হচ্ছে।
জমির মালিক আখতারুজ্জামান উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগে আবু তাহের নামের একজনকে ড্রেজারের মালিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ১২ আগস্ট তিনিসহ চারজন বাঙ্গরা বাজার থানায়ও অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর সরেজমিনে নায়েব পাঠানো হয়েছে এবং ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খেতের মাঝে বসানো ড্রেজার থেকে পাইপে মাটি অন্যত্র যাচ্ছে; দীর্ঘদিন মাটি কাটায় জমির একাংশ গভীর জলাশয়ের মতো হয়ে গেছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, গভীর করে কাটায় আশপাশের জমির পাড় ধসে পড়তে পারে, ফসলের ক্ষতি আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়বে। তবে কতটা জমি থেকে কত গভীরে মাটি কাটা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট মাপ অভিযোগে নেই; প্রকৃত ক্ষতি জানতে মাপজোক ও রেকর্ড যাচাই দরকার।
অনুমোদন না থাকার পক্ষে কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি, আবার অভিযুক্ত আবু তাহেরের কাছ থেকেও অনুমোদনের কাগজ মেলেনি; একাধিকবার ফোন করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭ক ধারায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি তোলার ক্ষেত্রেও কৃষিজমির উর্বরতা ও উপরিভাগের মাটি রক্ষার কথা বলা আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু জানান, পাঁচ বছরে মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় ফসলি জমি ২৪ হাজার ৬১ হেক্টর থেকে কমে ২৩ হাজার ৯১৪ হেক্টর হয়েছে, কমেছে ১৪৭ হেক্টর। তাঁর মতে, উপরিভাগের উর্বর মাটি সরানো চলতে থাকলে মাটির মান ও উৎপাদনক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই নজরদারি জরুরি। থানার ওসি শফিউল আলম জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটি দৈনিক বাংলার কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম তরুনের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
সূত্র: দৈনিক বাংলা




মন্তব্য
(০)