দেশে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ গুরুতর দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন, আর তাঁদের বড় অংশের প্রধান কারণ চোখের ছানি। অস্ত্রোপচারে ছানি পুরোপুরি সারানো যায়, কিন্তু তৃণমূলে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ কম থাকায় অনেকে সময়মতো চিকিৎসা পান না।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে প্রতিসরণজনিত ত্রুটি আর বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বাড়ছে; দৃষ্টি হারানো মানে শুধু চোখের আলো হারানো নয়, কাজ, সামাজিক মর্যাদা আর আর্থিক স্বাধীনতাও এর সঙ্গে জড়িয়ে।
প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের চক্ষু চিকিৎসা এখনো রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক; তাই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় চিকিৎসার সুযোগ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভিশন সেন্টার দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়, বিশ্বে ২০০ কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো চোখের সমস্যায় ভুগছেন, যাঁদের প্রায় ১০০ কোটির সমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতায় প্রতিরোধযোগ্য।
বক্তারা সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ছানিজনিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা পুরোপুরি দূর করার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণ জোরদারের আহ্বান জানান। শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল কার্যক্রম, আর কলকারখানা ও অফিসে নিয়মিত চোখ পরীক্ষার প্রস্তাবও আসে।
ডিজিটাল পর্দার চাপ কমাতে সভায় ‘২০-২০-২০’ নিয়মের পরামর্শ দেওয়া হয়: প্রতি ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো। সভায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল ও টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: Rakesh Ahuja, MD / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)