‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’-এ নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা নিঃস্বার্থ দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা আশা করছেন, এতে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনে রোগীদের বিদেশে যাওয়া কমবে, খরচও বাঁচবে। আইন অনুযায়ী সরকারের অনুমতি পাওয়া নির্দিষ্ট হাসপাতালেই কেবল প্রতিস্থাপন করা যাবে।
সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো জীবিত মানুষ, অঙ্গ দিলে নিজের স্বাভাবিক জীবনে সমস্যা না হলে, নিকটাত্মীয়কে অঙ্গ দান করতে পারবেন; একই শর্তে নিঃস্বার্থ দাতারাও পারবেন। নিঃস্বার্থ দাতার বয়স হতে হবে ১৮-র বেশি, মানসিকভাবে সুস্থ, আর্থিক প্রলোভন বা চাপমুক্ত এবং গ্রহীতার দীর্ঘদিনের পরিচিত; লাগবে নির্ধারিত কমিটির সুপারিশ। মাদকাসক্ত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আগ্রহী কেউ দাতা হতে পারবেন না। চোখ, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জার ক্ষেত্রে আত্মীয় বা নিঃস্বার্থ দাতার শর্ত থাকবে না।
ব্রেইন ডেথ ঘোষণার জন্য সাধারণত অন্তত ১২ ঘণ্টা সুস্পষ্ট কারণে অবিরাম কোমায় থাকতে হবে; ২ থেকে ১৩ বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ইইজি পরীক্ষায় অন্তত ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ লাগবে। মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, নিউরোলজি ও অ্যানেসথেসিওলজির অন্তত তিন বিশেষজ্ঞের কমিটি এ ঘোষণা দেবে, যাঁদের কেউ বা তাঁদের আত্মীয় প্রতিস্থাপনে যুক্ত থাকতে পারবেন না। মৃতদেহের অঙ্গদাতার বয়স ২ থেকে ৭০, জীবিত দাতার ১৮ থেকে ৬৫ বছর; গ্রহীতার বয়স ২ থেকে ৭০, তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
আইনের ১৮ ধারায় অঙ্গ কেনাবেচা, এর বিনিময়ে সুবিধা নেওয়া বা বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিকটাত্মীয়তার মিথ্যা তথ্য দিলে বা দিতে প্ররোচিত করলে অনধিক দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা; অন্য বিধান ভাঙলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। দণ্ডিত চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল হবে, আর অপরাধ ঘটলে হাসপাতালের প্রতিস্থাপনের অনুমতি বাতিল ও লাইসেন্স স্থগিত হতে পারে।
নিঃস্বার্থ দাতা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে প্রথমবার নিঃস্বার্থ দাতার কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে, আর সরকারি অনুদানে সেখানে বিনামূল্যে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছে। তাঁর হিসাবে একটি লিভার প্রতিস্থাপনে প্রায় দেড় শ ব্যাগ রক্ত আর প্রায় ৩০ লাখ টাকা লাগে; দেশে এই সেবা মিললে মানুষ বিদেশে যাবে কেন, প্রশ্ন তাঁর।
ইমোশনাল ডোনারের বিধানের জন্য হাইকোর্টে রিট লড়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। বাসসকে তিনি বলেন, আগে দাতার সংজ্ঞা সংকীর্ণ থাকায় কেবল নিকটাত্মীয়েরাই অঙ্গ দিতে পারতেন; হাইকোর্ট যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনারের অনুমতি দিয়ে আইন সংশোধনের নির্দেশ দেন, তারই ফল নতুন আইন। সঠিক প্রয়োগ হলে অঙ্গদানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি।
ছবি: A.M.R. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: আর টিভি অনলাইন





মন্তব্য
(০)