বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ৮৯৩ জন কৃষক ২০২৭ অর্থবছরে আলু বীজ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পাবেন। ব্যাংকের ১ নভেম্বরের এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বীজের ধরন অনুযায়ী একরপ্রতি ঋণের অঙ্ক আলাদা, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫ হাজার ৬১০ টাকা।
পরিপত্র অনুযায়ী, ভিত্তিবীজ উৎপাদনে একরপ্রতি ১ লাখ ৫ হাজার ৬১০ টাকা, আমদানি করা ভিত্তিবীজ দিয়ে প্রত্যয়িত বীজ উৎপাদনে ৮৭ হাজার ১৩০ টাকা এবং প্রত্যয়িত বীজ উৎপাদনে ৫৮ হাজার ৬৪০ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের টাকায় বীজ, সার, কীটনাশক ও ফসল সুরক্ষার উপকরণ কেনা যাবে। বিতরণ শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে, আর সুদসহ পরিশোধের শেষ সময় আগামী বছরের ৩০ জুন।
বিএডিসির ২০টি আলু বীজ উৎপাদন অঞ্চলের আওতায় ১৯টি জেলার কৃষকেরা এই সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে আছে গাজীপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, যশোর, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মেহেরপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, টাঙ্গাইল, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা। কর্মসূচিটি চলছে বিএডিসি ও কৃষি ব্যাংকের মধ্যে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর সই হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায়, যার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে কৃষি ব্যাংক ১ হাজার ১৩৩ জন কৃষককে মোট ১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিল, যার ৯৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ আদায় হয়েছে। নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে বিতরণ আটকানো যাবে না, এবং বিতরণ ও আদায়ে বিএডিসি ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এই ঋণের প্রয়োজন বোঝা যায় বীজের ঘাটতি থেকে। ওয়াখেনিনগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৪ সালের এক মূল্যায়নে বিএডিসির তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশে বছরে ৭০ লাখ থেকে ৭৭ লাখ টন আলু বীজের চাহিদা, কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলে মেটাতে পারে মাত্র ২০ শতাংশ: বেসরকারি খাত প্রায় ১৫ শতাংশ, বিএডিসি ৫ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশ বীজ কৃষক নিজের ফসল থেকে রেখে দেন। ২০২৭ অর্থবছরে বিএডিসি প্রথম শ্রেণির আলু বীজের দাম কেজিপ্রতি ২৭ টাকা ঠিক করেছে, বেসরকারি ও আমদানি করা বীজের দাম তার চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে ২০২৬ অর্থবছরে আলুর উৎপাদন আগের বছরের ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার টন থেকে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার টনে নেমেছে। আবাদি জমিও ১২ লাখ ২৯ হাজার ২৯৮ একর থেকে কমে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ একর হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে অবশ্য উৎপাদন বেড়েছে: ২০০০ সালে ৫৮ লাখ টন থেকে ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন।
প্রতিবেদনটি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) তথ্যের ভিত্তিতে এগ্রিকেয়ার২৪ প্রকাশ করেছে।
ছবি: কুউ পুলক / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)