গরুর মাংসসহ কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ চাহিদার সব সমাধান চীন দেবে—এমন ধারণা থেকে অস্ট্রেলিয়ার কৃষিকে সতর্ক থাকতে বলেছেন অর্থনীতিবিদ সল এসলেক (Saul Eslake)। ২৩ সেপ্টেম্বর গোল্ড কোস্টে দানাদার খাদ্যে মোটাতাজা করা গরুর শিল্পের দ্বিবার্ষিক বিফএক্স সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল।
এসলেক বলেন, আগামী ৬০ থেকে ৮০ বছরে চীনের জনসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি কমবে; ২০১৫ সালের দিকে শীর্ষে পৌঁছে এ পতন শুরু হয়ে গেছে। ৩০ বছর ধরে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়ে ওঠা চীনের অর্থনীতি গত দুই বছরে ৫ শতাংশের কম হারে বেড়েছে, আর সামনে তা ৩ শতাংশ বা তারও নিচে নামবে বলে তাঁর ধারণা।
তাঁর মতে, মহামারি এবং ২০১৮-১৯ সালে আবাসন বাজারের বুদ্বুদ চূড়ায় ওঠার পর থেকে চীনের ভোক্তারা হতাশায় আছেন, খুচরা বিক্রি প্রায় থেমে গেছে, বয়স বাড়তে থাকা মানুষ বেশি সঞ্চয় করছেন, আর বড় বাজেট ঘাটতির কারণে সরকার বড় প্রণোদনাও দিতে পারছে না। ফলে গরুর মাংস বা অন্য কিছুর জন্য চীন আর সেই প্রবৃদ্ধির বাজার থাকবে না, যা অস্ট্রেলীয়রা ধরে নিতে অভ্যস্ত।
বিকল্প বাজারের সম্ভাবনা বোঝাতে তিনি কয়েকটি হিসাব দেন। থাইল্যান্ডে মাথাপিছু যতটা গরুর মাংস যায়, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ায় ততটা গেলে বছরে বাড়তি ১ লাখ ২০ হাজার টন রপ্তানি হতো; মধ্যপ্রাচ্যে তাইওয়ানের মাথাপিছু হারে পাঠালে প্রায় ২ লাখ টন; মেক্সিকোয় যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার অর্ধেক হারে প্রায় ৩ লাখ টন; আর আফ্রিকায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর এক-চতুর্থাংশ হারে ১ লাখ ৮০ হাজার টন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, এসব রাতারাতি হবে না, বাধাও অনেক; তবে চীনের অর্থনীতি স্থবির থাকলে বা চীনের সাম্প্রতিক ৫৫ শতাংশ শুল্কের মতো সুরক্ষাবাদী নীতি চলতে থাকলে বিকল্প ভাবতেই হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে সম্প্রতি জেবিএস তাদের অস্ট্রেলীয় ব্যবসার ২৫ শতাংশ শেয়ার ইন্দোনেশিয়ার একটি সার্বভৌম তহবিলের কাছে বিক্রি করেছে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)