"আমি খুব ব্যস্ত" কথাটি এখন অনেক সময় কাউকে এড়িয়ে যাওয়ার ভদ্র কৌশল। কাজের চাপ আর স্ক্রিনের ব্যস্ততায় অন্যকে থেমে মন দিয়ে শোনার মানুষ কমে যাচ্ছে। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের এক লেখায় মনোযোগ দিয়ে শোনাকে নবীজির (সা.) জীবনের একটি আদর্শ ও সুন্নত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখায় এসেছে মদিনার সাধারণ এক নারী খাওলা বিনতে সালাবা (রা.)-র কথা। তৎকালীন সমাজের নির্মম প্রথা জিহারের শিকার হয়ে সংসার বাঁচানোর আকুতি নিয়ে তিনি নবীজির কাছে আসেন। এত নিচু স্বরে কথা বলছিলেন যে পাশে বসা আয়েশা (রা.)-ও সব শুনতে পাননি (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৮৮)। তাঁর সেই অভিযোগের জবাবে নাজিল হয় সুরা মুজাদালাহর প্রথম আয়াত: আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন।
রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচার, ওহি গ্রহণ আর শিক্ষাদান মিলিয়ে নবীজি ছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষদের একজন। তবু কোনো শিশু, প্রবীণ বা অসহায় নারী এসে দাঁড়ালে তিনি কখনো বলেননি, তাঁর সময় নেই (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৬১)।
কারও কথা শোনার সময় তিনি শুধু কান পাততেন না, পুরো শরীর ঘুরিয়ে মানুষটির দিকে মনোযোগ দিতেন (শামায়িলে তিরমিজি, হাদিস ৮)। এই অখণ্ড মনোযোগের কারণে প্রত্যেকে ভাবত, সে-ই বুঝি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২৭১১)।
লেখাটির পরামর্শ, আমরা প্রায়ই বোঝার জন্য নয়, উত্তর দেওয়ার জন্য শুনি। অথচ কষ্টের কথা বলতে আসা মানুষ অনেক সময় সমাধান চান না, চান কেউ বিচার না করে শুনুক। এই কোলাহলের যুগে সহমর্মী শ্রোতা হয়ে ওঠাই নবীজির চরিত্র লালনের একটি সুন্দর উপায়।
ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)