বীজের গায়ে প্রলেপ হিসেবে দেওয়া আর্জিনেক্স (Arginex) নামের একটি ফসল পুষ্টি প্রযুক্তি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডের সাতটি জায়গায় স্বাধীন মাঠ পরীক্ষায় শীতকালীন গমের ফলন গড়ে ৪.৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এ কথা জানিয়েছে পণ্যটির উদ্ভাবক সুইডেনের প্রতিষ্ঠান আরেভো।
পণ্যটি অ্যামিনো অ্যাসিড আর্জিনিন ও ফসফেট মিলিয়ে তৈরি, এতে কোনো জীবাণু নেই; এটি বীজের গায়ে মাখিয়ে দেওয়া হয়। আরেভোর দাবি, এটি শিকড়ের চারপাশের মাটিকে সক্রিয় করে এবং শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ফলে চারা দ্রুত দাঁড়িয়ে যায়।
পরীক্ষায় ৩৪০টি প্লটে পাঁচটি ভিন্ন মাত্রার সার দিয়ে শোধিত ও অশোধিত বীজ তুলনা করা হয়। শোধিত বীজের গমে হেক্টরপ্রতি গড়ে ০.২৬ টন বেশি দানা হয়েছে, আর প্লটভেদে ফলনের তারতম্য ছিল প্রায় ২০ শতাংশ কম। দানার প্রোটিন ও হাজার দানার ওজন প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
কৃষকের কাছে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় হতে পারে সারের ফল। নাইট্রোজেন ও ফসফরাস ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার পরও শোধিত বীজের গমের ফলন পূর্ণ মাত্রায় সার পাওয়া অশোধিত গমের চেয়ে পরিসংখ্যানগতভাবে আলাদা ছিল না। অথচ কম সারে অশোধিত গমের ফলন পূর্ণ মাত্রার তুলনায় হেক্টরে ০.৪৩ টন কমে যায়।
যেখানে চারা গজানো সবচেয়ে কঠিন ছিল, সেখানেই লাভ বেশি হয়েছে। পোল্যান্ডে খরা ও বালুমাটি, আর ইতালিতে মে-জুনের তীব্র গরম চারার ওপর চাপ ফেলেছিল। ইতালির দুটি জায়গায় শোধিত বীজ ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ দ্রুত গজিয়েছে, বসন্তের শুরুতে গাছের সবুজভাব ছিল ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ বেশি; পোল্যান্ডে শোধিত প্লটে মাটি ঢাকা পড়েছে ১২ থেকে ১৮ শতাংশ বেশি।
খরা, তাপের চাপ আর সারের খরচ যখন ইউরোপের মাঠ ফসলের চাষিদের ভোগাচ্ছে, তখন এই ফল এল। আরেভো বলছে, ভিন্ন পরিবেশে ফল টেকে কি না দেখতে ২০২৬-২৭ মৌসুমে আরও পরীক্ষা হবে। এর আগে ভুট্টার জন্য আর্জিনেক্সের একটি পণ্য ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার পরীক্ষায় ৩০ শতাংশ কম নাইট্রোজেনে ৪.৩ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ফলন দিয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
পরিসংখ্যানগুলো আরেভোর পরীক্ষার ফল ঘোষণা থেকে নেওয়া; প্রতিষ্ঠানটি বলছে, পরীক্ষাগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়েছে।
ছবি: Tony Hisgett / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)