সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

তিমি-ডলফিনের করুণ মৃত্যু কি কোনো বড় বিপদের নীরব পূর্বাভাস?

সাব্বির হোসাইন

সাব্বির হোসাইন

বিস্তীর্ণ সুনীল জলরাশি আর অপার জীববৈচিত্র্যের আধার বঙ্গোপসাগর আজ যেন তার চিরচেনা স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। বিপন্ন হচ্ছে এই জলভাগের অন্যতম গভীর ও রহস্যময় অঞ্চল 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড'। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে দক্ষিণে অবস্থিত পৃথিবীর দ্বিতীয় গভীরতম এই খাতটি দীর্ঘকাল ধরে তিমি ও ডলফিনের জন্য নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে উপকূলজুড়ে ভেসে আসা জলজ প্রাণীদের নিঃপ্রাণ দেহ এক অজানা আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে।

​সম্প্রতি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে একের পর এক ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই এবার বরগুনার পাথরঘাটা সৈকতজুড়ে থমকে দাঁড়ায় প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি মৃত তিমি। অগভীর জলে যাদের বিচরণ নেই, সেই তিমির দেহ পাথরঘাটার তীরে পৌঁছানো কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।

মৃত তিমিটি উদ্ধারের স্থান থেকে 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড'-এর দূরত্ব মাত্র ৪৫ কিলোমিটারের মতো। সমুদ্র বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর খাতেই প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে জোয়ারের তোড়ে ভেসে এসে সৈকতে আটকে পড়ে।

​কিন্তু বিশাল এই প্রাণীর মৃত্যুর মূল রহস্য কী? সামুদ্রিক বিজ্ঞানীদের মতে, তিমির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পেছনে সচরাচর কয়েকটি প্রধান অনুঘটক কাজ করে খাদ্যসংকট, খাবারের ভুল ধারণায় প্লাস্টিক বর্জ্য গিলে ফেলা, সমুদ্রের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়া, জলতলে শব্দদূষণ এবং বৃহদাকারের জাহাজের ধাক্কা। তবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের ওপর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত অত্যন্ত সীমিত। ফলে জাহাজের ধাক্কার সম্ভাবনা বাদ দিলে বাকি কারণগুলো বঙ্গোপসাগরের তলদেশের ভয়াবহ চিত্রকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

সমুদ্রের তলদেশে এমন কোনো পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে কি না তা নিয়ে জলঘোলা কম হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং খাদ্যের চেইন ভেঙে পড়ার মতো বৈশ্বিক সংকট যেমন রয়েছে, তেমনি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে নিঃসৃত অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের বিশুদ্ধতা নষ্ট করছে।

​বঙ্গোপসাগরের এমন বিষাদময় পরিবর্তন শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বাংলাদেশ নামক উপকূলীয় এই ভূখণ্ডের জনজীবনের জন্যও এক অশুভ বার্তা। বিশাল এই জলজ প্রাণীদের মৃত্যু আদতে সাগরের বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ার আগাম সংকেত।

এখনই সময় ডলফিন ও তিমি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে উন্মোচন করার। শুধু ক্ষোভ প্রকাশ না করে, জরুরি ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগর ও এর অভয়ারণ্য রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সমুদ্রের এই আর্তনাদ এক দিন মহাবিপর্যয় হয়ে তটরেখায় আছড়ে পড়বে।

লেখক: শিক্ষার্থী,তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা টঙ্গী

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বরেন্দ্রে বছরে ০.৬ মিটার পর্যন্ত নামছে পানির স্তর, সমন্বিত পানিনীতির দাবি

রাজশাহীতে নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি, খাল-বিল সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কম পানির ফসলের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাসস১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

দুই উৎসের বর্জ্য ঠেকালে হালদার ৮০ শতাংশ দূষণ কমতে পারে, বলছেন গবেষকেরা

অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য আর বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য সামলাতে পারলে হালদার দূষণ অনেকটাই কমবে; এ বছর মা-মাছের ডিম মিলেছে প্রায় ৬ হাজার কেজি।

দৈনিক বাংলা১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

গাপ্পির চেয়ে বেশি মশার লার্ভা খায় দেশি তিন মাছ, গবেষণাগারের পরীক্ষায় ফল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরীক্ষায় নাপিত খয়রা, জেব্রাফিশ ও ব্লু পাঞ্চাক্স দূষিত পানিতেও বিদেশি গাপ্পির চেয়ে অনেক বেশি কিউলেক্স ও এডিস মশার লার্ভা খেয়েছে।

প্রথম আলো১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)