রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর হয়ে গেল তিন দিনের অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ ফেয়ার ২০২৬। ৪৫টির বেশি স্টলে ছিল রঙিন মাছ, জলজ উদ্ভিদ, অ্যাকুয়ারিয়াম আর সাজসজ্জার উপকরণ। প্রথম আলোর প্রতিবেদক এম এ হান্নান শুক্রবার বিকেলে মেলায় দর্শনার্থীর ভিড় দেখেছেন।
দামের পরিসর ছিল বিস্তর। এক জোড়া গাপ্পিসহ কয়েকটি প্রজাতি মিলছিল ৫০ টাকায়, অথচ আমদানি করা বিশেষ জাতের মলির এক জোড়ার দাম উঠেছিল ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাথায় ঝুঁটির মতো উঁচু অংশের ফ্লাওয়ার হর্ন আকারভেদে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত, আর অ্যাকোয়া টেক বিডির স্টলে কমলা-কালো এক জোড়া ক্লাউনফিশের দাম ছিল ১৪ হাজার টাকা।
মুখের দুই পাশে থলের মতো অংশের বাবল আই গোল্ডফিশ বিক্রি হচ্ছিল দেড় থেকে দুই হাজার টাকায়, আর সোনালি রঙের ২৪ ক্যারেট গোল্ড নামের এক জোড়া মাছ মাত্র ৪০০ টাকায়। দেশি ছোট চিংড়ির জোড়া যেখানে ৭০ টাকা, সেখানে লাল, গোলাপি, বাদামি ও সাদা রঙের ক্রেফিশের দাম তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। শেওলা পরিষ্কারে সহায়ক শামুক ছিল ২০ টাকায়।
মাছের বাইরেও বিক্রি হচ্ছিল নানা কিছু। জলজ উদ্ভিদের এক আঁটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বয়ামে বেটা মাছ ঝোলানো ফাইটার ট্রি ৫ হাজার টাকা, পাহাড়-ঝরনার আদলে কাচের টেরারিয়াম ৭০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। পাঁচ ধরনের পোকাখেকো উদ্ভিদের একটি টেরারিয়ামের দাম চাওয়া হচ্ছিল ২২ হাজার টাকা, আর চায়না বট নামে পরিচিত ফলভরা একটি ফাইকাস বনসাইয়ের ৫৫ হাজার টাকা।
বাজরিগার, লাভবার্ডসহ পাখির দাম ছিল ৬০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। পাথর, বালু, মস, ড্রিফটউডের মতো অ্যাকুয়ারিয়াম সাজানোর উপকরণ খুচরা ও পাইকারি দুই দরেই বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল শিশুদের।
যাঁরা এ মেলায় যেতে পারেননি, তাঁদের জন্য ৫ থেকে ৮ নভেম্বর ইস্কাটনের অ্যাবাকাস কনভেনশন সেন্টারে বসছে বাংলাদেশ অর্নামেন্টাল ফিশ ফেয়ার অ্যান্ড শো ২০২৬। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে, প্রবেশ ফি লাগবে না। ছোট পরিসরে রঙিন মাছের প্রজনন ও বিক্রি এখন শহরের অনেক তরুণ উদ্যোক্তার আয়ের পথ, আর এমন মেলাই তাঁদের বড় বাজার।
ছবি: Lerdsuwa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)